জ্যৈষ্ঠের চড়চড় করে বাড়তে থাকা পারদ আর বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের জেরে তৈরি হওয়া গুমোট পরিস্থিতিতে নাজেহাল দশা শহরবাসীর। সকাল আটটা বাজতে না বাজতেই সূর্যদেব যেভাবে চোখরাঙানি শুরু করছেন, তাতে দুপুরের দিকে রাস্তায় পা রাখা রীতিমতো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝেমধ্যে কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও হচ্ছে। কিন্তু তাতে গরম কমার বদলে ভ্যাপসা ভাব যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
প্রকৃতির এই খামখেয়ালি মেজাজের কারণে নরম পানীয় বা আইসক্রিমের চেয়েও মানুষ এখন অনেক বেশি ঝুঁকে পড়েছেন প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর উপায়ের দিকে। যা ক্ষণিকের জন্য হলেও শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করছে। তীব্র এই দহনজ্বালা ও ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রেহাই পেতে পথচলতি আমজনতার প্রথম পছন্দ এখন ডাব। কড়া রোদ মাথায় নিয়ে অফিসযাত্রী, টোটো চালক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা ভিড় জমাচ্ছেন ডাবের ঠেলাগাড়িগুলির সামনে।
তবে এই চড়া চাহিদাকে হাতিয়ার করে বিক্রেতারাও গরমের বাজার জমিয়ে তুলেছেন। যার সরাসরি কোপ পড়ছে মধ্যবিত্তের পকেটে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাজারের সাধারণ মাপের একটি ডাবের দামও ১০০ টাকার গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। আর একটু বড় বা ভাল জলের ডাব কিনতে গেলে পকেট থেকে খসছে আরও বেশি টাকা। ফলে তীব্র গরমে গলা ভেজাতে গিয়ে পকেট গড়ের মাঠ হওয়ার জোগাড় সাধারণ মানুষের।
ডাবের এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণ মানুষের একাংশ এখন বাধ্য হয়েই তুলনামূলক সস্তা বিকল্পের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায় মিলতে থাকা এক গ্লাস টাটকা আখের রস বা টক দই পথচারীদের ভরসা হয়ে উঠেছে। শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পাড়ার মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত টক দইয়ের চাহিদাও এখন আকাশছোঁয়া। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বেলা বারোটা বাজতে না বাজতেই দোকানগুলির ফ্রিজ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন।