গ্রেফতার হওয়ার পরেও পুষ্পার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ফলতার বাসিন্দা অনিল হালদারের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁকে ডেকে হুমকি দেন জাহাঙ্গীর খান। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর সভায় যোগ দেওয়া এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল। অনিল হালদারের আরও অভিযোগ, জাহাঙ্গীর খানের জন্মদিন পালন উপলক্ষে এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায় করা হতো।
তিনি নিজেও তিন দফায় ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হন। অভিযোগ, টাকা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হতো না। জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত এই অর্থ তোলা হতো বলে দাবি তাঁর। এই সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদে ১৮ মে ফলতা থানায় জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, খুনের চেষ্টা সহ একাধিক মামলায় অভিযোগ দায়ের করেন অনিল হালদার। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
ইতিমধ্য়ে পুলিশের জালে জাহাঙ্গির খান। সূত্র মারফত খবর, ফলতার এই তৃণমূল নেতাকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার করে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। নেপাল সীমান্ত ধরে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির বলে জানা গিয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান এসটিএফ-এর আধিকারিকেরা। গ্রেফতার করা হয় ফলতার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীকে। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগেই রণে ভঙ্গ দেন জাহাঙ্গির ৷ শেষমেশ ঝুঁকেছিলেন ‘পুষ্পা’ ৷ পালিয়েছিলেন ফলতা থেকে। বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল প্রার্থী। উধাও হয়েছিল ‘পুষ্পা’-র তর্জন-গর্জন, পুনর্নির্বাচনের আগেই লুকিয়েছিলেন জাহাঙ্গির।