আড়ম্বরের প্রতিযোগিতা বন্ধ, মেয়ের জন্মদিনে 'ওঁদের' জন্য এলাহি আয়োজন শিক্ষক বাবার
News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
জন্মদিন মানেই কেক কাটা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ-উৎসব। তবে সেই প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মানবিকতার এক অনন্য নজির গড়লেন পূর্বস্থলী-১ ব্লকের উত্তর শ্রীরামপুর এলাকার শিক্ষক পার্থ দে। তাঁর মেয়ে ভাস্বতী দে-র ১৪তম জন্মদিন উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান না করে এলাকার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন তিনি।
উত্তর শ্রীরামপুর মোড় সংলগ্ন পার্থ দে-র বাড়িতে আয়োজিত হয় এই মানবিক কর্মসূচি। এদিন প্রায় ৫০ জন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের হাতে শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের জন্য যে অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা ছিল, সেই অর্থই সমাজের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়। পার্থ দে জানান, মানুষের আশীর্বাদ ও ভালবাসার চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হতে পারে না। তিনি বলেন, “অনুষ্ঠান করে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়ান যেত, কিন্তু এই অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাই আমার মেয়ের জন্মদিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরও বলেন, হয়ত কয়েক দিনের জন্য হলেও তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। এটাই আমাদের কাছে আনন্দের। তিনি আরও জানান, এটা এই প্রথম উদ্যোগ নয়। প্রতি বছরই পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির সময় থেকেও তিনি নিয়মিতভাবে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বহু মানুষ।
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে উপকৃত পরিবারগুলিও পার্থ দে ও তাঁর মেয়ে ভাস্বতীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করেন, ব্যক্তিগত আনন্দকে সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ অন্যদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। বর্তমান সময়ে যখন জন্মদিন উদযাপন অনেক ক্ষেত্রেই আড়ম্বরের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে, তখন উত্তর শ্রীরামপুরের এই শিক্ষক ও তাঁর মেয়ের উদ্যোগ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। ভাস্বতীর ১৪তম জন্মদিন তাই শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক সুন্দর বার্তা বহন করল।