কড়া নিরাপত্তায় কাকভোরে আদালতে জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় ফলতার স্বঘোষিত পুষ্পাকে। আদালত চত্বর তখন পুলিশে ছয়লাপ। ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। এ দিন আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার জাহাঙ্গিরের গ্রেপ্তারের খবরের পরেই ফুঁসতে থাকে ফলতা। ফলতার শ্রীরামপুরে জাহাঙ্গিরের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। জাহাঙ্গিরের তালাবন্ধ বাড়ি ও একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে।
মনে করা হচ্ছে, জনরোষের কথা মাথায় রেখেই ফলতা থানা থেকে এ দিন ভোরে কোর্ট লকআপে এনে রাখা হয় জাহাঙ্গিরকে। তোলাবাজি, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, এলাকা দখল, হিংসা ছড়ানোর মতো অভিযোগ এই জাহাঙ্গিরের নামে।
সোমবারই ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় বাংলার পানিট্যাঙ্কি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। বাগডোগরা থেকে রাতে কলকাতায় আনা হয়, নিয়ে যাওয়া হয় ফলতায়। ডায়মন্ড হারবার আদালতে মামলার শুনানি হবে। সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবারে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। একটিতে গ্রেপ্তার, বাকিগুলিতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
সোমবার জাহাঙ্গিরের যে কার্যালয়ে ভাঙচুর চলে, স্থানীয়দের দাবি, জাহাঙ্গিরের ওই কার্যালয় থেকে মদের বোতল, ত্রাণসামগ্রী ও বিপুল পরিমাণ খামবন্দি চশমা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি ত্রাণসামগ্রী ও স্বাস্থ্য শিবিরে বিতরণের জন্য বরাদ্দ চশমা প্রকৃত সুবিধাপ্রাপকদের না দিয়ে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই সব সামগ্রী ব্লক প্রশাসনের কাছে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
জাহাঙ্গিরের বাবা আকবর খান ছিলেন এলাকার নামকরা ওস্তাগর। তাঁর কাছেই জামাকাপড় সেলাই করা শেখেন জাহাঙ্গির। ২০০৮-এর পঞ্চায়েত ভোটে প্রথম বার জিতে জাহাঙ্গির পঞ্চায়েত সদস্য হন, ২০১৩-য় ফের জিতে হন পঞ্চায়েত প্রধান। ২০১৮-য় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, ২০২৩-এ হন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হন। এ বার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি ছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী। ভোটের আগে তর্জন গর্জন কম করেননি। তবে ভোটের ফলাফলে পাশা ঘুরতেই পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।