মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক কোলাঘাটে। মঙ্গলবারের সেই বৈঠকে যোগ দিলেন বিরোধী শিবিরের সাংসদ, বিধায়করা। এ দিন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলাকে নিয়ে কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে যোগ দেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দীনেন রায়। এ দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে রাজনীতি হবে, সারা বছর কাজ করতে হবে। আমরা এই বন্ডিংটা তৈরি করতে চাইছি।’
এর আগে কল্যাণী, দুর্গাপুর এমনকী নবান্নেও মুখ্যমন্ত্রী যে প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন, সেখানে বিরোধীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ দিন বৈঠকে যোগ দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে জনপ্রতিনিধি। মানুষের জন্য কাজ করা আমাদের দায়। মানুষের কাজের জন্য বিরোধীরা আসবে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষের উন্নয়নের জন্য যা, তা তো সকলেই সমর্থন করবে।’ প্রায় দু’ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই বৈঠক হয় কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে।
বৈঠকে বিরোধীদের ডাকা এবং আসা নিয়ে ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা বলেন, ‘এটাই আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তফাত। আমরা যে আগে মানুষের ভোটে জিতে বিধানসভায় গিয়েছি, কোনও গুরুত্বই পেতাম না। এখন বিজেপি সরকার বিরোধীদের ডাকছে। তারাও আসছে। তারা বলছে।’
সূত্রের খবর, বর্ষায় যাতে মানুষকে সমস্যায় না পড়তে হয়, তা নিয়ে এ দিনের বৈঠকে বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। যে জেলাগুলি নিয়ে এ দিন প্রশাসনিক বৈঠক হচ্ছে, একটা বড় অংশই বর্ষায় প্লাবিত হয়, সেখানকার মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই চলে না ঠিকই, তবে আগাম ব্যবস্থা যাতে প্রশাসন নেয়, সে বিষয়ে এই বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উপরেও বাড়তি জোর দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে বিরোধীদের হাজিরা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আজ ৩৫ জন বিধায়ককে ডেকেছিলাম, সকলেই এসেছিলেন। এর মধ্যে দু’জন বিরোধীও ছিলেন। আমরা প্রথম থেকেই যে, বিশ্বাসী বিধায়ক মানে বিধায়ক। চার জন সাংসদও ছিলেন। একজন বিরোধী দলের সাংসদ তো বলেই ফেললেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন কথা বলার।’