• ‘সারাবছর কাজ করতে হবে’, বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জুন ২০২৬
  • কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে বিদ্রোহী তৃণমূল গোষ্ঠীর বিধায়ক-সাংসদের পাশে বসিয়ে উন্নয়নের আলোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে যোগ দেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দীনেন রায়। এখান থেকেই সারা বছর কাজ করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যা শুনে একমত হলেন বিরোধীরাও।

    এদিকে প্রশাসনিক বৈঠকেও নিজের লক্ষ্যে অনড় থাকলেন অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারী। আর অবশেষে আদায় করে নিলেন তাঁর দাবিও। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে তৃণমূল সাংসদকে কথা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত সেই কাজ হবে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই কাজ শুরু করেছিল। এবার তা শেষ করবে বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের সময় রাজনীতি করব। সারা বছর উন্নয়ন হবে। ঘাটালের সাংসদ ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে বলেছেন। আমরা করব। উন্নয়নের স্বার্থে সবাই এক হয়ে গিয়েছে। বিরোধী দলের এক সাংসদ বলেই ফেললেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন কথা বলার, তাই আমি মন খুলে আজ বলছি। আমরা এই বন্ডিং তৈরি করতে চাইছি।’

    অন্যদিকে সামনে বর্ষা আসছে। তাতে মানুষজন যেন অসুবিধায় না পড়েন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেই শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘নির্বাচনের সময় রাজনীতি হবে। আর সারাবছর কাজ করতে হবে। নানা পরিকাঠামো উন্নয়ন পিছিয়ে গিয়েছে, মানুষের মূল সুযোগ সুবিধা থেকে পিছিয়ে গিয়েছি। রাজ্য সরকারের সম্পূর্ণ বিপর্যয় হয়েছে, শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন চালু করতে হবে। আমাদের চলার পথ পুরোটাই ফর দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল, অফ দ্যা পিপল। আমরা এই বন্ডিংটা তৈরি করতে চাইছি।’

    তাছাড়া এই বৈঠক থেকে বেরিয়ে প্রত্যেকেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে জনপ্রতিনিধি। মানুষের জন্য কাজ করা আমাদের দায়। মানুষের কাজের জন্য বিরোধীরা আসবে সেটাই স্বাভাবিক। মানুষের উন্নয়নের জন্য যা হবে সকলেই সমর্থন করবে।’ ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা বলেন, ‘এটাই আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তফাৎ। আমরা যে আগে মানুষের ভোটে জিতে বিধানসভায় গিয়েছি, কোনও গুরুত্বই পেতাম না। এখন বিজেপি সরকার বিরোধীদের ডাকছে। তারাও আসছে, বলছে।’ সাংসদ দেবের বক্তব্য, ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গত সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। আমি ঘাটালবাসীকে কথা দিয়েছি এটা হবে। তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে আসা। আমি প্রথম থেকেই সৌজন্যের রাজনীতিই করেছি। আমার এলাকার কথা বলেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালবাসা সারাজীবন থাকবে। যতদিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি। নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না।‘
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)