• কাকলি-কল্যাণ তর্জায় উত্তপ্ত দিল্লি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জুন ২০২৬
  • রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই কার্যত দুর্বিসহ অবস্থা তৃণমূলের। রাজ্য বিধানসভার পর লোকসভাতেও ভেঙেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অধিকাংশ দলীয় সাংসদই তৃণমূল ছাড়ার পথে। এ অবস্থায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা-অনুগত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীদের কটাক্ষ করে বললেন, ‘ওদের নেতা এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ওরা সরাসরি বলতে পারছে না যে আমরা বিজেপি করি।’

    এদিকে কল্যাণের আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর সাফ কথা, ‘আমি অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। এই ধরনের কিছু লোকের কথায় আমার কিছুই যায় আসে না। আমার মাথা কেটে নিলেও আমি মাথা নত করব না।’

    তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। বারাসতের সাংসদ কাকলির নেতৃত্বে তাঁরা চাইছেন শাসকজোট এনডিএ-তে যোগ দিতে। এই মুহূর্তে মমতার পাশে রয়েছেন মাত্র ৮ সাংসদ। যাঁদের মধ্যে কল্যাণ আছেন। রাজ্যসভাতেও একই পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই দল ও সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়। রাজ্যসভার আরও কয়েকজন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা।

    মঙ্গলবার সকালে সাংসদ কীর্তি আজাদকে পাশে নিয়ে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে করেন কল্যাণ। বিদ্রোহীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, ‘যদি নৈতিকতা থাকে তাহলে নিজেদের তৃণমূলের সাংসদ বলবেন না। সৎ সাহস থাকলে সাংসদ পদ ছাড়ুন।’ বিদ্রোহী তারকা সাংসদদেরও নিশানা করেন মমতা ঘনিষ্ঠ এই আইনজীবী সাংসদ। তিনি বলেন, ‘ফিল্মস্টাররা সব ভিন-দেশি তারা। কেষ্ট না থাকলে ২০০৯ সালে শতাব্দী জিততে পারতেন না। আসলে ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তাই এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ঘুরছে। ক্ষমতা ছাড়া এরা থাকতে পারবে না। এরা বিশ্বাসঘাতক, গদ্দার।’

    আরজি কর প্রসঙ্গেও দুই বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শর্মিলা সরকারকে নিশানা করেন কল্যাণ। তাঁর প্রশ্ন, ‘আরজি কর ইস্যুতে কাকলি আর শর্মিলা কবে পথে নেমেছিল? কাকলি আর শর্মিলাকে চ্যালেঞ্জ করছি, পারলে আরজি করে কী হয়েছিল সেটা সিবিআইকে বলুন।’

    তবে কল্যাণের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, ‘কে কবে থেকে মমতার পাশে আছে সব জানি। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি। তবে আর নয়।’ পাশাপাশি মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে বলেও কাকলি অভিযোগ করেছেন।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)