সোমবার স্বঘোষিত টলিপাড়ার নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের বেহালার ফ্ল্যাটে মিলেছিল একটি বন্ধ ঘর। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ডিজিটাল লক করা ছিল সেই ঘরে। ওই দিন বেশি রাতেই সেই ঘর খোলে পুলিশ। যেহেতু ওই লকের কোড মনে ছিল না বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস সেহেতু তা খুলতে কালঘাম ছুটে গিয়েছিল অফিসারদের। প্রায় ৬ ঘণ্টা চেষ্টা করার পর ওই রহস্যময় ঘর খোলা সম্ভব হয়। আর ওই ঘর খুলতেই চোখ কপালে উঠে যায় পুলিশের।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ঘর খুলতেই নজরে আসে তাক জুড়ে থরে থরে সাজানো ১৪টি মোবাইল ফোন। প্র্ত্যেকটিই অত্যধুনিক এবং অত্যন্ত দামি। সেগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আর উদ্ধার করা হয়েছে ২টি আইপ্যাড সঙ্গে গিল্ড সংক্রান্ত একাধিক নথি। কিন্তু কি এমন আছে ওই নথিতে যা তালাবন্ধ করে রাখতে হয়েছিল? উঠছে প্রশ্ন। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। ওই ঘর খোলার জন্য চাবি ভাঙার লোকও নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপরও খোলা যায়নি। কারণ তা ডিজিটাল লক। অনেক চেষ্টা করে বেশি রাতে তা খোলা সম্ভব হয়। মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বরূপ বিশ্বাসকে।
পুলিশের দাবি, মোবাইল ফোন থেকে মিলতে পারে এমন অনেক তথ্য যা হয়ত স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। মিলতে পারে এমন সব নম্বর বা চ্যাট যা হয়ত স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আরও মজবুত করবে। তবে পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে একটি বিষয়, তা হলো এতগুলি মোবাইল কিসে ব্যবহার করা হতো। তাহলে কী আর অন্য কোনও রহস্যের জট কাটতে চলেছে? উঠছে প্রশ্ন। এখন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে মোবাইল ও আইপ্যাড খোলার কাজ করতে চাইছে পুলিশ। মোবাইল ও আইপ্যাডের ভিতরের তথ্য বা ডেটা উদ্ধার করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তাছাড়া মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা অকাট্য কোনও প্রমাণ লুকিয়ে রাখা হয়েছে ওই ফোনগুলিতে বলে মনে করছে পুলিশ। স্বরূপকে নিয়ে সাহাপুর কলোনির বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। তখনই সব সামনে আসে। স্বরূপ বিশ্বাস নানা কুকর্ম জড়িয়েছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, আর্থিক প্রতারণা, রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল করে সুরুচি সংঘের মতো খ্যাতনামা ক্লাব চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ক্লাব ঘরের দ্বিতীয় তলায় বিলাসবহুল বিছানা এবং পরিকাঠামোর বন্দোবস্ত করে দুষ্কর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এবার লালবাজারের সাইবার সেলের ফরেনসিক বিভাগে মোবাইল ও আইপ্যাড পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের সন্দেহ মেসি কাণ্ডের তথ্যও মিলতে পারে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে।