রাজ্যে চালু আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, সুবিধা পাবেন রাজ্যের ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জুন ২০২৬
বাংলায় পালাবদলের পরেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার রাজ্যে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। শুধু বাংলায় নয়, ভিন-রাজ্যের হাসপাতালেও এ বার বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। এ রাজ্যের যাঁরা ভিন-রাজ্যে থাকেন, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
সোমবার দিল্লিতে বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্যের এই বহু প্রতিক্ষীত চুক্তি সই হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ কেন্দ্র এবং রাজ্যের পদস্থ আমলারা উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি সইয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।
এদিন বিজ্ঞান ভবনে চুক্তি পর্ব মেটার পর শুভেন্দু বলেন, ‘শুধু রাজ্যের বাসিন্দারাই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন তা নয়। যাঁদের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে, এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম ও আধার রয়েছে, কিন্তু থাকেন ভিন-রাজ্যে তাঁরাও কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। দেশের যে কোনও প্রান্তে তাঁরা পরিষেবা পাবেন। এতদিন ভিন-রাজ্যে বসবাসকারী এ রাজ্যের বাসিন্দারা এই সুবিধা পেতেন না।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে এখন পশ্চিমবঙ্গও সামিল। এদিনের চুক্তির জন্য মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সচিব পুণ্যসলিলা শ্রীবাস্তবকেও ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন। তৃণমূলকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার কেন্দ্রের মোদী সরকারের কোনও সুবিধা নিতে চায়নি। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প চালু করেন। কিন্তু সে সময় ওড়িশা, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পে যোগ দেয়নি। ওড়িশা, দিল্লিতে আগেই হয়েছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষও বিকাশ বিরোধী সরকারকে টাটা করেছে।’
শুভেন্দু বলেন, ‘এই প্রকল্পের নাম ছিল আয়ুষ্মান মন্দির। মন্দির লেখা ছিল বলেই এই প্রকল্প কার্যকর করেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কিন্তু রাজ্যে এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। মানুষ ডাবল ইঞ্জিনের সুফল পাচ্ছে। চুক্তি হয়ে গেল। রাজ্যের ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার এই সুবিধা পাবে। প্রত্যেককে ইন্ডিভিজুয়াল কার্ড দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই যোজনায় কেন্দ্রের তরফে বাংলাকে ৯৭৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। শুধু ভাষণ নয়, তাঁর সরকার মোদীজির নেতৃত্বে কাজে করে দেখাচ্ছে।’
অন্যদিকে মুখ্যসচিব মনোজ জানান, দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত ছিলেন। আজকের পর তাঁরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সবিধা পাবেন। যাঁদের জন্য প্রকল্প তাঁরা সকলেই সুবিধা পাবেন। রাজ্যে ৭০ বছরের বেশি বয়সি এমন ৪০ লক্ষ মানুষ আছেন। তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ প্যাকেজ। তাঁদের জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ পাঁচ লক্ষ টাকা। পশ্চিমবঙ্গের ২ লক্ষের বেশি আশা কর্মীও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুপ্রিয়া জানিয়েছেন, এবার বাংলার প্রবীণরা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যসচিব জানান, এতদিন শঙ্কর নেত্রালয়, এজিআই হায়দরাবাদ বা চেন্নাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে এ রাজ্যের মানুষকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হত। কিন্তু এখন থেকে আর সেটা হবে না। কারণ এই প্রকল্পের অন্তর্গত বিভিন্ন রাজ্যে বহু বড় বড় হাসপাতাল রয়েছে। রাজ্যের মানুষ সেখানে গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারবেন। অন্যদিকে যাঁদের বয়স ৭০ বছর বা তার বেশি, তাঁরা দ্বিগুণ সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুপ্রিয়া বলেন, ‘পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে মাত্র আড়াই-তিন হাজার হাসপাতালে এই সুবিধা মিলত। কিন্তু আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে দেশের মোট ৩৬ হাজারের বেশি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বাংলার মানুষ। আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেই সেখানে চিকিৎসা হবে।’
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে এদিন জানানো হয়েছে, ২০২৬-এর ৩১ মে পর্যন্ত ৩৬ হাজার ১৯৩টি হাসপাতাল এই আয়ুষ্মান প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ হাজার ৫৫৭টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এখনও পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১২.১৭ কোটি মানুষকে ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ৪৯ শতাংশ আয়ুষ্মান কার্ড মহিলাদের জন্যই অনুমোদিত হয়। হাসপাতালে উপকৃতদের ৪৯ শতাংশই মহিলা।