চার বছর পর শুরু ১০০ দিনের কাজ, কোদাল নিয়ে মাঠে মন্ত্রী দিলীপ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জুন ২০২৬
চার বছর বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে চালু হয়ে গেল ১০০ দিনের কাজ। আর এই কাজের নতুন করে শুভ সূচনা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের জোয়ারগড়ি অঞ্চলে নারকেল ফাটিয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক চিরণ বেরা, আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এই নতুন সূচনায় খুশি গ্রামের দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবারগুলি। তবে এখানে নতুন মেজাজে দেখা গেল রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রীকে।
এদিকে তখন জবকার্ড হোল্ডাররা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হাজির হন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই দেখা গেল, হাতে কোদাল নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি। জব কার্ডধারী শ্রমিকরা তা দেখে বেশ চমকে গিয়েছেন। নতুন করে এই প্রকল্প চালু হওয়ায় একেবারে মাঠে নেমে কাজের বার্তা দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া ব্লকের জোয়ারগড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের (মনরেগা) পুনরায় সূচনা অনুষ্ঠানে কোদাল হাতে দেখা গেল মন্ত্রীকে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তারপর প্রতীকীভাবে মাটি কেটে কাজেরও সূচনা করলেন মন্ত্রী।
অন্যদিকে মাটি কাটার মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে নানা অভিযোগ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। এবার কেন্দ্রের অনুমোদনের পর ৯ জুন ২০২৬ থেকে আবার চালু হয়েছে ১০০ দিনের কাজ। এই বিষয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘গত চার বছর ধরে এই কাজ বন্ধ থাকায় গ্রামের গরিব মানুষ চরম বঞ্চিত হয়েছেন। আগের সরকারের আমলে এই প্রকল্পে প্রচুর দুর্নীতি হওয়ার কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেওয়া বন্ধ করেছিল। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই এই কাজ পুনরায় দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তাছাড়া এই ১০০ দিনের কাজের টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। এখন তা চালু হয়েছে। এই বিষয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর দাবি, ‘গ্রামীণ এলাকার মানুষের হাতে কাজ পৌঁছে দেওয়াই রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী মাস থেকেই এটা ১২৫ দিনের কাজে পরিণত হবে। গ্রামের মানুষের সারা বছরের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই কাজের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আরও ১৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।’