ঘর ভেঙে চুরমার তৃণমূলের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যেতে চেয়েছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এই মর্মে চিঠিও দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একসময় যে এনডিএ জোট ছেড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সব ঠিক থাকলে সেই এনডিএ-র পাশেই বসতে চলেছেন তাঁর ই দলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। লোকসভার স্পিকার যদি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিঠি গ্রহণ করেন, তাহলে লোকসভার সংখ্যাতত্ত্ব বদলে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা এখন।
২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই তিনশোর বেশি আসন পেলেও, ২০২৪-এ উলটে যায় ছবিটা! শরিকদের নিয়েও ৩০০ পার করতে পারেনি বিজেপি। এক্ষেত্রে নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর উপরে অনেকটাই ভরসা করে থাকতে হচ্ছে মোদি-শাহ কোং-কে! ফলত কেন্দ্রের মসনদে টিকে থাকতে কোনও সমস্যা না হলেও, বিল পাশ করাতে গিয়ে ধাক্কা খেতে হচ্ছে বিজেপিকে। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়, সেই সংখ্যাটি নেই বিজেপি তথা এনডিএ-র হাতে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সমর্থন পেলে, এনডিএ সেই সংখ্যার দিকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তেলুগু দেশম পার্টি, একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা মিলিয়ে এতদিন পর্যন্ত এনডিএ-র হাতে ছিল ২৯২টি আসন। তাই হিসেব বলছে তৃণমূলের ২০ জন যোগ হলে ৩০০ পার করতে পারবে এনডিএ, সে ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা হবে ৩১২। তবে তাতেও দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যায় পৌঁছতে পারছে না এনডিএ। মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ‘এক দেশ এক ভোট’ বিলের মতো সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে গেলে অন্তত ৩৬২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন লোকসভায়। তার থেকে আপাতত দূরেই থাকছে বিজেপি।
একনজরে হিসাব?
গত লোকসভা নির্বাচনে এককভাবে বিজেপি পায় ২৪০টি আসন। এর সঙ্গে রয়েছে তেলুগু দেশম পার্টির ১৬ সাংসদ, জেডিইউয়ের ১২ সাংসদ, শিবসেনা (শিন্ডে শিবির) ৭ সাংসদ, এলজেপি (রামবিলাস শিবির) ৫ সাংসদ, জেডিএস ২ সাংসদ, জনসেনা পার্টি ২ সাংসদ , আরএলডি-২ সাংসদ, এনসিপি (অজিতপাওয়ার গোষ্ঠী) -১ সাংসদ, আপনা দল -১ সাংসদ, অসম গণ পরিষদ-১ সাংসদ, আজসু- ১ সাংসদ, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা ১ সাংসদ এবং সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চার ১ সাংসদ। সব মিলিয়ে এতদিন ২৯২ আসন ছিল এনডিএ’র। এর সঙ্গেই এবার জুড়ছে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ৩১২।
তবে ‘মিশন কমপ্লিট’ করতে আগামিদিনে আরও বেশ কয়েকজন বিধায়ককে নিজেদের দলে টানতে পারে বিজেপি। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস, উদ্ধব ঠাকরে শিবির, শরদ পাওয়ার শিবিরে থাকা সাংসদরা নজরে রয়েছেন বলে খবর। এমনকী তৃণমূলের রাজ্যসভাতেও ‘অপারেশন লোটাস’ হতে পারে বলে জোর জল্পনা।