তাঁর দুয়ারে সিআইডি। আর তিনি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর দুয়ারে। সই জাল কাণ্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন অফিসে যখন তদন্তকারী আধিকারিকরা তল্লাশি চালানোর জন্য হাজির হয়েছেন, ঠিক তখনই দিল্লিতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়ার ১০ জনপথের বাসভবনে যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। কালীঘাটের বাড়ির দু’য়ারে সিআইডি আধিকারিকরা হাজির হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দিল্লির বাড়ি থেকে বেরিয়ে ১০ জনপথের উদ্দেশে রওনা দেন তৃণমূলনেত্রী।
বস্তুত সেই রাজীব গান্ধীর আমল থেকেই সোনিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে মমতার (Mamata Banerjee)। মাঝে রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাতেও সেই সম্পর্কে বিশেষ চিড় ধরেনি। একদিন আগেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সোনিয়াকে আলিঙ্গন করেছিলেন মমতা। হাসিমুখে ছবিও তোলেন দু’জনে। তারপরই মঙ্গলবার কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সনের বাড়িতে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। স্বাভাবিকভাবেই এই সাক্ষাৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই মুহূর্তে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। পরিষদীয় দলে তাঁর নিয়ন্ত্রণ নেই। সাংসদরাও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর স্নেহভাজন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধারে তদন্তে সিআইডি, ইডি। এমনকী সই জাল কাণ্ডে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও হাজির হয়েছে সিআইডি। যে কার্যালয়ের উলটো দিকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বাড়ি। এই পরিস্থিতি ‘আশ্রয়’ খুঁজতে ‘পুরনো বন্ধু’ সোনিয়ার বাড়িতে তৃণমূল নেত্রী।
বস্তুত, ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই মমতা ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার বার্তা দিচ্ছেন। সোমবার ইন্ডিয়ার বৈঠকেও তিনি জোটের সমন্বয়ের কথা বলেন বলে শোনা যায়। কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন করে রাজ্যে রাজনৈতিক জমি তৈরিই যে তাঁর উদ্দেশ্য, সেটাও স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রী মঙ্গলবার সোনিয়াকে কী বলেন, সেটাই দেখার।