• তৃণমূল জমানায় গোঘাটের জাদুকর, চা দোকানের কর্মী থেকে কোটিপতি ! লুটের টাকায় সাত্তারের রাজমহল
    News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
  • জাদুকরের ছোঁয়ায় কত কিছুই না হয়। তাজমহল গায়েব হয়। রুমাল বেড়ালও হয়। তৃণমূল জমানাতেও এমন ‘এক সে বড় কর এক’ জাদুকর দেখা গিয়েছে। যাঁরা ভানুমতির খেল দেখিয়েছেন। রাত কে দিন, দিনকে রাত করেছে। কুঁড়েঘরকে প্রাসাদ করেছেন। চা দোকানের কর্মী থেকে কোটপতি হয়েছেন। এমনই এক জাদুকর আজ রাজমহলের স্ক্যানারে। ফোকাসে গোঘাটের তৃণমূল নেতা শেখ সাত্তার।

    সাইকেলে সাত্তার সেখানে থেকে বাদশা:

    চায়ের দোকানের কর্মী। অর্ডার অনুযায়ী হাতে হাতে চা, মুড়ি, ঘুগনি পৌঁছে দেওয়া। এটাই কাজ। সময়টা ২০০৫ কিংবা ২০০৬। শেখ সাত্তার তখন নেহাতই সাধারণ এক ছাপোষা মানুষ।

    ২০১৬: বাংলায় তৃণমূলের রমরমা। ঘাসফুলের ঘরে সাত্তার। তারপরই রকেট উত্থান। এ এক অচেনা সাত্তার। গোঘাটের নয়া অবতার। খিলাড়িও কা খিলাড়ি।

    আরও পড়ুন– রাজধানীতে ঠিকানাহীন তৃণমূল ! কলকাতার পর এবার কি দিল্লির অফিসও হাতছাড়া?

    ২০১৬ থেকে ২০২৬। দশটা বছর। এই দশ বছরেই পাড়ার চেনা সাত্তার গোঘাটের বাদশা। অনেকে বলেন, তৃণমূলি ময়দানে সাত্তারের গডফাদার ছিলেন বিধায়ক মানস মজুমদার। মানস মজুমদারের ডান হাত হয়ে উঠেছিলেন সাত্তার। বিধায়কের বরাভয়। সাত্তারকে আর পায় কে? বালি চুরি থেকে তোলাবাজি। ভয় দেখিয়ে জমি লুট। গোঘাটের ফাঁকা মাঠে ক্রমেই লম্বা হয়েছে দুর্নীতির ফর্দ।

    সাত্তারের পেট্রোল পাম্প: কোটিপত্তি সাত্তার। একাধিক জমির মালিক। পেট্রোল পাম্পেরও মালিক। এই সেই পেট্রোল পাম্প। হাইওয়ের ধারেই। কয়েক কোটির সম্পত্তি।

    সাত্তারের লুটের জমি: এবার দেখাই সাত্তারের লুটের জমি। আরামবাগ-ব্যাঙ্গাই রোডের ধারেই তিনফসলি জমি। বিঘার পর বিঘা জমি।সবই সাত্তারের সম্পত্তি। দুনম্বরি সম্পত্তি। কোটি কোটির সম্পত্তি।

    বালি চোর সাত্তার: তারকেশ্বর নদীর পাড়ে একের পর এক বালিখাদান। এই খাদানে থেকেই দিনের পর দিন বালিচুরি। বালিচুরির গুরু শেখ সাত্তার। গুরুরও পেট ভরেছে। পেট ভরেছে চ্যালাদের।

    অভিযোগ, এসবই হয়েছে বিধায়কের বরাভয়ে। বিধায়কের ছবিকে সামনে রেখে সাত্তারের সুপার ওভার। সাত্তারের লোভের থাবা থেকে রেহাই পাননি বিশেষভাবে সক্ষম সঞ্জিত মণ্ডলও। জোর করে অসহায় বৃদ্ধের জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেয় সাত্তার। আতঙ্কের সেই স্মৃতি আজও জ্বালা ধরায় শরীরে। পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে হুমকি। গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জমি কেড়ে নেওয়া। শেষ সম্বল। সেটুকুও সাত্তারের লোভের বলি। কোনও কাকুতি মিনতিই ধোপে টেকেনি। এটাই সাত্তারের সন্ত্রাস। এরকম অসংখ্য লুঠপাট আর ডাকাতির ইতিহাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গোঘাটের অলিতে গলিতে। গরিব আরও গরিব হয়েছে। চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে। সাত্তারের সম্পত্তি লাফ দিয়ে বেড়েছে।

    তৃণমূল নেতা সাত্তার শেখের বাড়ি। থুড়ি রাজমহল। যে কোনও বড় আবাসনকেও হার মানাবে সাত্তারের এই সাতমহল। গ্যারাজে দামি গাড়ি। জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন সঞ্জিতরা। অন্যদিকে লুটের টাকায় অট্টালিকা হাঁকিয়েছেন সাত্তাররা। সেই অট্টালিকার সিমেন্ট-বালিতে মিশে আছে এমন হাজার হাজার সঞ্জিতের চোখের জল। সঞ্জিত একা নন। সাত্তারের সন্ত্রাসের বলি শেখ মোতিউল্লাও। মোতিউল্লার গায়েও জমিলুঠের যন্ত্রণা। ছোট্ট একটা টায়ারের দোকান ছিল মতিউরের। সেই দোকানটার উপরেই একদিন নজর পড়ল সাত্তারের। একদিন সেই দোকানে সাত্তারের হামলা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল মতিউরের দোকান। সেই জমিতেও ভাগ বসাল সাত্তার-বাহিনী। মোতিউল্লার চোখের সামনে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে তাঁর ছোট্ট দোকান। গুঁড়িয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকা। গুঁড়িয়ে যাচ্ছে তাঁর স্বপ্ন। মোতিউল্লার শেষ সম্বল। তৃণমূল শাসনে এভাবেই হারিয়ে গেছে বহু স্বপ্ন। গুঁড়িয়ে গিয়েছে খেটে খাওয়া মানুষের সম্বল। কেড়ে নেওয়া হয়েছে মান-সম্মান ইজ্জত। তৃণমূলের এই সব এজেন্ট নেতাদের কালেকশনের টাকা ঢুকেছে বহু পকেটেই। তাই শুধু ‘কেষ্টা ব্যাটাই’ চোর নয়। চোরের তালিকা আরও দীর্ঘ। যে তালিকা ক্রমশ প্রকাশ্য।
  • Link to this news (News18 বাংলা)