• সীমান্ত এলাকায় মেলেনি সেতু, নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হাজারও মানুষের মুশকিল আসান এক যুবক
    News18 বাংলা | ০৯ জুন ২০২৬
  • : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের পাবাখালি গ্রাম। ইতিহাসপ্রসিদ্ধ এই গ্রামেই রয়েছে চূর্ণী, মাথাভাঙ্গা ও ইছামতি নদীর মিলনস্থল। বাংলাদেশ থেকে আসা মাথাভাঙ্গা নদী এখান থেকে চূর্ণী নদীর মাধ্যমে রানাঘাটের দিকে এবং ইছামতি নদীর মাধ্যমে বনগাঁ-বসিরহাটের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। তবে বর্তমানে ইছামতির উৎসমুখে বর্ষাকাল ছাড়া প্রায় সারা বছরই জল থাকে না। সেই শুকনো নদীখাতের উপর দিয়েই চলাচল করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর দু’পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও মাঝের অংশটি নদীর বুকের উপর হওয়ায় বর্ষাকালে বা ভারী বৃষ্টির সময় তা কাদাময় ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ফলে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার যুবক প্রকাশ দেব শর্মা প্রতি বছর নিজের উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে রাস্তার খারাপ অংশে ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। শুধু তাই নয়, নিজেই সেই রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা সমরেশ নন্দীর দাবি, এই এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। তাঁর মতে, এই রাস্তা শুধু সাধারণ মানুষের নয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাজদিয়া ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের কলকাতাগামী যাতায়াতেও এই পথের গুরুত্ব অনেক। টোটোচালক বিবেক বিশ্বাস জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং যানবাহন উল্টে যায়। অপর টোটোচালক অমল রায় বলেন, বর্ষার সময় এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি, সাইকেল বা টোটো চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। প্রকাশ দেব শর্মনের উদ্যোগেই বর্তমানে মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছেন।

    এলাকাবাসীর একাংশের মতে, প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার মাঝে প্রকাশ দেব শর্মনের মানবিক উদ্যোগই আজ হাজারও মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত একটি সেতু নির্মাণই এখন তাদের প্রধান দাবি।
  • Link to this news (News18 বাংলা)