সামান্য মেঘ-বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দুর্ভোগে বসিরহাট মহাকুমার মানুষ। বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কখনও কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনও রাতের বড় একটা সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানীয় জল তোলার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বারবার। শুধু গৃহস্থালির কাজেই নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিভিন্ন দোকান, সাইবার ক্যাফে, ফটোকপি সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ এবং অন্যান্য বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায় কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। শিক্ষাক্ষেত্রেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সন্ধ্যা ও রাতের সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। পরীক্ষার মরশুমে বা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সময় এই সমস্যা পড়ুয়া ও অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। ডিজিটাল শিক্ষার যুগে ইন্টারনেট ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ দফতরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী দিনে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরও ঘন ঘন হতে পারে। তাই দ্রুত পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছেন বসিরহাট মহাকুমার বাসিন্দারা।