• ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করব’, দেবকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন তৃণমূল সাংসদ?
    এই সময় | ০৯ জুন ২০২৬
  • তৃণমূল জমানার শেষ দিকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে কাজে দ্রুত গতি দেখা গেলেও, বিধানসভা ভোটের মুখে এসে তার গতি শ্লথ হয়ে যায়। কিন্তু পরে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করা। কিন্তু মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার এ বার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করবে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী)। তিনিও পরে জানান, শুভেন্দুর অধিকারীর সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করার বার্তা দিয়েছে।

    পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেব। বৈঠকের পরে শুভেন্দু জানান, সরকারের উন্নয়নযজ্ঞে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরাও শামিল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। বৈঠকে তাঁরা বক্তৃতাও করেছেন। উন্নয়নের স্বার্থে ভালো প্রস্তাবও তাঁরা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এক বিরোধী সাংসদ তো বলেই ফেললেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই মন খুলে বলতে পারছি। তাঁরা বলেওছেন। আমাদের বাংলা অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। আইনের শাসন চাই। শাসকের আইন নয়। উন্নয়নের পক্ষে এখানে সকলে একজোট ছিলেন।’

    এর পরেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঘাটালের এমপি (দেব) বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করা আমার প্রতিশ্রুতি ছিল। আমি বলেছি, আমাদেরও তা-ই ছিল। আমরা ওটা করব। উন্নয়ন নিয়েই উনি (দেব) কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাজ, ঠিক করে উন্নয়ন করা। ভোটের সময়ে রাজনীতি হবে। বাকি সারা বছর বিকাশের কথা বলব।’

    পরে দেবও বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমার প্রতিশ্রুতি ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করা। ২০১৪ সাল থেকে আমি সেই কথা বলে যাচ্ছি। দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথা রেখেওছিলেন। নতুন সরকার এটা কমপ্লিট করবে, যেটা আগের সরকার শুরু করেছিল।’ দেব জানান, আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেটেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করতে টাকা বরাদ্দ করা হবে বলে জানিয়েছে শুভেন্দুর সরকার।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান মূলত ষাট দশক আগের একটি পরিকল্পনা। নদী বেষ্টিত ঘাটাল এবং ঘাটাল লাগোয়ো এলাকা গুলিকে বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে এই প্রকল্প প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পরে বছর দুয়েক আগে প্রকল্প রুপায়ণের কথা ঘোষণা করেছিল মমতার সরকার। তার জন্য পাঁচশো কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়েছিল।

    তবে কাজ শুরুর পরই নানা ঘটনায় হোঁচট খায় প্রকল্পের কাজ। নানা জট কাটিয়ে পরে অবশ্য কাজ শুরু হয়। পাম্প হাউস, নদী-খালের ড্রেজিংয়ের কাজও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত দুর্গা পুজোর পর থেকে ধীর গতি কমতে থাকে। টাকা বরাদ্দের পরেও অর্থ দপ্তরের অনুমোদন না মেলায় প্রস্তাবিত একাধিক কাজ শুরুই হয়নি। পাম্প হাউসের কাজ শুরু হলেও জমি কেনা না হওয়ায় ভোটের মুখে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়। তার পরে ভোট মিটতেই বন্ধ হয়ে যায় শিলাবতী-সহ ঘাটাল, দাসপুরের একাধিক খাল-নদীর পলি তোলার কাজ। ফলে তখন থেকেই অনিশ্চয়তা দেখা দেয় গোটা প্রকল্প নিয়ে। মঙ্গলবার শুভেন্দুর বার্তার পরে সেই অনিশ্চয়তা খানিক কাটল বলেই মনে করা হচ্ছে। আপাতত ঘাটালবাসী তাকিয়ে রাজ্যের বাজেটের দিকে।

  • Link to this news (এই সময়)