কাচুমাচু মুখ করে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গির খান। যে প্রশ্নই করা হয়, বলেন ‘আমি জানি না’। মাস দেড়েক আগে যে জাহাঙ্গির নিজেকে ফলতার ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করেছিলেন, আর মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে যে জাহাঙ্গির দাঁড়িয়ে, দু’জনের মধ্যে কোনও মিলই নেই। এমনকী তাঁর হয়ে দাঁড়াননি কোনও আইনজীবীও।
মঙ্গলবার সেই কাকভোরে ফলতা থেকে ডায়মন্ড হারবার কোর্টে নিয়ে আসা হয়েছে জাহাঙ্গিরকে, পাছে ভোরের আলো ফুটে গেলে জনরোষে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হয়। ফলতার লোকজন যে এখন জাহাঙ্গিরের নাম শুনলেই ফুঁসে উঠছেন। তাই ভোরেই কোর্ট লকআপে এনে রাখা হয় জাহাঙ্গিরকে।
দুপুর ২টা ৩৪ মিনিট। ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে আনা হয় জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’কে। পরণে সাদা শার্ট, অফ হোয়াইট প্যান্ট, মুখভর্তি দাড়ি। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জাহাঙ্গিরকে দেখতে তখন এজলাসে আইনজীবীদের ভিড়।
বিচারকের প্রশ্ন, ‘আপনার কোনও আইনজীবী নেই কেন?’ প্রশ্ন শুনেও প্রথমে চুপ থাকেন জাহাঙ্গির। বিচারক বলেন, ‘চুপ থাকলে হবে না, উত্তর দিন।’ তখন জাহাঙ্গিরের সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘আমি জানি না।’
এর পরে বিচারক জানতে চান, ‘আপনাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জানেন?’ জাহাঙ্গিরের উত্তর, ‘আমি জানি না।’
পুলিশের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়ে বিচারক প্রশ্ন করেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছু বলার আছে কি না। জাহাঙ্গির এ বারও মাথা নেড়ে জানান, তাঁর কোনও বক্তব্য নেই।
যে জাহাঙ্গিরের নামে এক সময়ে ফলতা কাঁপত, এখন সেই জাহাঙ্গিরই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভয়ে কাঁপছেন। যে জাহাঙ্গির এক সময়ে তাবেদার পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতেন, সেই জাহাঙ্গিরের হয়ে এ দিন কোর্টে কোনও আইনজীবী পর্যন্ত দাঁড়াননি। চোখ মুখ বিধ্বস্ত। পুলিশের আবেদন মেনে আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।