নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝুঁকল পুষ্পা! ফলতার ‘স্বঘোষিত বাদশা’ জাহাঙ্গির খান। নেপাল ঢোকার আগেই সোমবার সকালে শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত থেকে বেঙ্গল এসটিএফের হাতে পাকড়াও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই নেতা। ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আনা হয় ফাঁসিদেওয়া থানায়। ট্রানজিট রিমান্ডে ফলতার ত্রাসকে বিমানে করে রাতে কলকাতায় আনা হয়। রাত ১টা নাগাদ আনা হয় ফলতা থানায়। আজ মঙ্গলবার তাকে ডায়মন্ডহারবার আদালতে তোলার কথা।
বিধানসভায় ফলতায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে আসা আইপিএস অজয় পাল শর্মা জাহাঙ্গিরের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিলেন। তারপরই দলীয় কার্যালয়ে বলে ওই আইপিএসকে চ্যালেঞ্জ ঠুকে বলেছিলেন ওই পুলিশ কর্তা যদি ‘সিংহম’ হন তাহলে তিনিও ‘পুষ্পা’। তাঁর এই বক্তব্য শোরগোল ফেলে দেয় বিভিন্ন মহলে। এই পর্বেই ব্যাপক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় কমিশন। যদিও ভোটের আগেই ময়দান ছেড়ে পিঠটান দেন এই নেতা। ২১ মে ভোটের দিন তাঁকে ওই চত্বরে কেউ দেখতে পায়নি। গুঞ্জন শুরু হয়, তাহলে কি অভিষেকের কাছের এই নেতা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন? রাজ্য প্রশাসন থেকে পুলিশের শীর্ষ মহলের কাছে নির্দেশ যায়, জাহাঙ্গিরকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তার বিরুদ্ধে ফলতা, ডায়মন্ডহারবার সহ বিভিন্ন থানায় ধর্ষণ, ডাকাতি, জোর করে লুটপাট, তোলাবাজির মতো ডজনখানেক মামলা ঝুলে রয়েছে। পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদিনই অভিযোগ জমা পড়তে থাকে। জাহাঙ্গিরের সন্ধান পেতে তাঁর ভায়রা সইদুল খান ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জেরা করে জানা যায় এলাকায় নেই জাহাঙ্গির। ২৪ মে গাড়িতে করে পরিবার নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন স্বঘোষিত এই বাদশা। রাজারহাট, নিউটাউন, ভাঙর সহ বিভিন্ন এলাকায় পালা করে থাকছেন। সেখানে অভিযান চালিয়েও খোঁজ মেলেনি। ধৃত দুজনের ফোনের কল লিস্ট ঘেঁটে জাহাঙ্গিরের কয়েকটি নম্বর পান তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই জানা যায়, রাজনৈতিক ‘বস’এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ওই ফোনের সূত্র ধরেই এসটিএফের অফিসাররা জানতে পারেন, জাহাঙ্গির শিলিগুড়ির দিকে মুভ করছেন। তদন্তকারীরা বুঝে যান, নেপালে পালানোর মতলবে রয়েছেন এই নেতা। সেইমতো সোমবার সকালেই সেখানে পৌঁছে যান অফিসাররা। পানিটাঙ্কি সীমান্ত পেরোনোর ঠিক আগের মূহূর্তে দার্জিলিং পুলিশের সঙ্গে বেঙ্গল এসটিএফের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে যান ‘পুষ্পা’। জেরায় তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, ফলতায় থাকা সম্ভব নয় বুঝে যান ভোটের ফল বেরোনোর পর। সেই কারণে রাজনৈতিক বসকে বলেন, দিল্লিতে শেল্টারের ব্যবস্থা করে দিতে। কিন্তু বস জানান, দিল্লি ও বঙ্গে বিজেপির পুলিশ। তাই তাঁকে ধরে ফেলবে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেন নেপাল পালানোর। কারণ ভিন্ন রাষ্ট্র হওয়ায় পুলিশ ধরতে পারবে না। তাঁর রাজনৈতিক বসের বাংলো রয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। সেখানে আগে পরিবারকে পাঠিয়ে দেন পরিচিতের মাধ্যমে। তারপর নিজে পালাচ্ছিলেন। সেখানে পাকাপাকিভাবে থাকতে নেপালের পরিচয়পত্র জোগাড় করে ফেলেছিলেন। এমনকি সন্তানদের নেপালে স্কুলে ভর্তির জন্য অ্যাডমিশন ফি জমা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। জাহাঙ্গিরের পলায়ন পর্বে রাজনৈতিক বসের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। নিজস্ব চিত্র