• চেয়ারম্যান সহ ২০ কাউন্সিলারের পদত্যাগ, পুর বোর্ড ভাঙল উত্তর দমদমে
    বর্তমান | ০৯ জুন ২০২৬
  • ​নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে একের পর এক পুরসভার চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলাররা গণহারে পদত্যাগ করছেন। নির্বাচিত পুর বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় পুরসভা পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। এই আবহে সোমবার উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান সহ ২০ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিলেন। এদিন দুপুরে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই পুরসভায় কবে প্রশাসক বসবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পদত্যাগ করেই পুরসভা পরিচালনায় আগের সরকার নজর দেয়নি বলে তোপ দেগেছেন চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস।

    উত্তর দমদম পুরসভায় কাউন্সিলারদের মোট সংখ্যা ৩৪। প্রত্যেকেই তৃণমূলের। পালাবদলের পর বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার একাধিকবার পুরসভায় গিয়ে বৈঠক করেছেন। উন্নয়নের স্বার্থে পুরসভা পরিচালনায় পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছিলেন। কিন্তু পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সহ নানা ইস্যুতে কর্মবিরতি, কাউন্সিলারদের পুরসভায় গরহাজির থাকা সহ নানা ইস্যুতে ডামাডোল চরমে উঠেছিল। এমনকি, চেয়ারম্যান কিছু দিন আগে বারাকপুরে গিয়ে মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে দেখাও করে এসেছিলেন। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সোমবার দুপুরে চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান লোপামুদ্রা দত্ত চৌধুরী সহ ২০ জন কাউন্সিলার পুরসভায় হাজির হন। এরপর সবাই একে একে এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের কাছে বিধানবাবু বলেন, ‘আমি সহ মোট ২০ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করলাম। আমাদের জনপ্রিয় বিধায়কের নেতৃত্বে আগামী দিনে উত্তর দমদম পুরসভা যাতে মানুষকে আরও ভালো পরিষেবা দিতে পারে, তার জন্যই পদত্যাগ করেছি। কর্মচারীদের সময়ে বেতন প্রদান সহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা দিতেও এই পদক্ষেপ আমাদের।’  এরপর তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলেন, ‘এতদিন তো আমরা রাজ্য সরকারকে অনেক চিঠি দিয়েছি। কিন্তু আগের সরকার উত্তর দমদম পুরসভার দিকে সেভাবে নজরই দেয়নি। আশা করছি, আমাদের জনপ্রিয় বিধায়ক আগামী দিনে পুরসভা তথা সামগ্রিক বিধানসভাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’ একধাপ এগিয়ে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘আমি একজন সনাতন ধর্মের লোক। আমি চাই সনাতন ধর্মের মানুষ শান্তিতে এই বাংলায় থাকুক। আমার বিশ্বাস ডবল ইঞ্জিন সরকার ভালো কাজ করবে।’ বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, ‘আমাদের তরফে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে, কেউ বলতে পারবে না। ওঁরা স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন। আইন মেনে পুরসভায় প্রশাসক বসবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)