নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সই জাল কাণ্ডে আজ, মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গেলেন সিআইডির আধিকারিকরা। টিমে রয়েছেন প্রায় ৩২ জন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। এরপর পাশাপাশি তাঁর বাড়ির উল্টোদিকে থাকা একটি দলীয় কার্যালয়েও হানা দেন তাঁরা। এছাড়া ক্যামাক স্ট্রিটের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসেও গিয়েছে সিআইডির দল। জানা গিয়েছে, এদিন কালীঘাটে মমতা বাড়িতে ঢোকার সময় বাধার সম্মুখীন হতে হয় সিআইডিকে। তল্লাশিতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এবং তৃণমূল নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা হয় তাঁদের। তবে বারবারই সিআইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তদন্ত স্বার্থে তাঁরা সমস্ত প্রক্রিয়া মেনেই এসেছেন। আসার আগে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোও হয়েছিল। অপরদিকে, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে যাওয়ার কারণ হিসেবে সিআইডি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে জমা পড়া রেজ্যলিউশনে ঠিকানা হিসেবে যে দুটি ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে একটি ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট।
অন্যদিকে, আজ তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তৃণমূল নেতা শুভাশিসবাবু বলেন, আমি বাধা দেওয়ার কেউ নই। কিন্তু বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমি এখানে রয়েছি। এই অবস্থায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে আমি আপনাদের ঢুকতে দিতে পারব না। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বাদানুবাদ চলে। এরপরও মমতার বাড়িতে ঢুকে পড়েন সিআইডি আধিকারিকরা। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় আর সময় দেওয়া যাবে না। সূত্রের খবর বর্তমানে ভিডিওগ্রাফি করছেন তাঁরা। যেখানে বৈঠক হয়েছিল সেই জায়গাও যান তাঁরা। কার্যালয়ের লগবুকও খোঁজা হয় বলে সূত্রের খবর। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এইসময় মমতার বাড়ির সামনে পৌঁছন দলীয় বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পরে পৌঁছন মদন মিত্রও। তবে তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি সিআইডি। অন্যদিকে, অভিষেকের অফিসে তিন নম্বর নোটিশ দিয়ে এসেছে সিআইডি। জানানো হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে ভবানীভবনে হাজিরার দিতে হবে। এরপর সাড়ে ৫টার একটু আগে ফের সময় চেয়ে সিআইডিকে চিঠি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।