• জল আর খাবারে অদৃশ্য মরণফাঁদ! দেশে থাবা মারাত্মক ‘শিগেলা’-র, মৃত ৪ বছরের শিশু
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • করোনা ও নিপা-র পর এ বার ভারতের দেশের বুকে নতুন স্বাস্থ্য আতঙ্ক: ‘শিগেলা’ (Shigella)। কেরালায় এই মারাত্মক ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণে ইতিমধ্যেই এক ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কোঝিকোড়ের বাসিন্দা নীলা নামের ওই একরত্তির মৃত্যুর পর থেকেই রাজ্য জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু শিশু এই অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, গোটা রাজ্য জুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

    সরকারি সূত্রের খবর, কোঝিকোড় এবং ওয়েনাড়ের পাশাপাশি আলাপ্পুঝা এবং পঠামথিট্টা জেলাতেও এই ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের হদিশ মিলেছে। কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে মুরলীধরণ জানিয়েছেন, ওয়েনাড়ের সুলতান বাথেরি মহকুমা হাসপাতালে একই স্কুলের ২৫ জন পড়ুয়ার চিকিৎসা চলছে। ওই স্কুলে প্রায় ৮০০ জন পড়ুয়া থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    কোঝিকোড় থেকে একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিমকে দ্রুত ওয়েনাড়ে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়নও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই সংক্রমণ রোখার জন্য সরকারকে আর্জি জানিয়েছেন।

    চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগেলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ব্যাকটিরিয়া, যা সরাসরি মানুষের পরিপাকতন্ত্র এবং অন্ত্রে হানা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-এর পরিসংখ্যান শিউরে ওঠার মতো। তাদের মতে, ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে ডায়ারিয়াজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল এই শিগেলা ব্যাকটিরিয়া। সে বছর প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়েছিল এই রোগ।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং এর প্রধান লক্ষণগুলি হলো:

    - তীব্র জ্বর ও পেটে অসহ্য মোচড়ানি

    - টানা তিন দিনের বেশি ক্রমাগত মলত্যাগ এবং Bloody Diarrhoea অর্থাৎ মলের সঙ্গে রক্তপাত

    - শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়া

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দূষিত জল, বাসি-পচা খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকেই এই ব্যাকটিরিয়া মানবদেহে ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা এই মরণ কামড়ের সহজ শিকার হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে কড়া নজরদারি এবং পানীয় জলের উৎসগুলি অবিলম্বে জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Link to this news (এই সময়)