প্রবল গরমে যেন টেকা দায় হয়ে উঠেছিল। নাভিশ্বাস উঠেছিল বঙ্গবাসীর। সবার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন, ‘বর্ষা কবে আসবে?’ অবশেষে সে এল। বর্ষার ‘গৃহপ্রবেশ’ হলো বঙ্গে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ৯ জুন মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং ডুয়ার্সের জেলাগুলিতে বর্ষা ঢুকেছে। এ বার দক্ষিণবঙ্গে তার আগমনের পালা।
কেরালার পথ ধরে বর্ষা ঢোকে ভারতে। মোটামুটি ১ জুনই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তবে এ বার দক্ষিণের রাজ্যে বর্ষা ঢুকেছে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু দেরিতে, ৪ জুন। তার ৬-৭ দিনের মধ্যে এ রাজ্যে বর্ষার প্রবেশের কথা ছিল। নিয়মের ব্যতিক্রম সব সময়েই থাকে। কখনও তাড়াতাড়ি বর্ষার ঢোকে, কখনও দেরি হয়। এ বারে কেরালায় বর্ষা ঢোকার পাঁচ দিনের মাথায় উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করল বর্ষা।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বর্ষার প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং দার্জিলিংয়ে। পূর্বভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন এই জেলাগুলিতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও কমবেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
এ বার দক্ষিণবঙ্গের পালা। সাধারণত উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশের ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দক্ষিণের জেলাগুলিতেও বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রবেশ করে বর্ষা। তবে, কখনও কখনও হাওড়া, হুগলি, কলকাতায় বর্ষা ঢুকতে ২১ দিনও লেগে গিয়েছে। তবে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের অনুমান।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায় আগামী কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে একাধিক এলাকাতেও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।