বাড়িতে চেয়ারে বসে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। উল্টোদিকে ক্ষুব্ধ জনতা চেঁচিয়ে নানা অভিযোগ করছেন। তারপরেই হঠাৎ উড়ে এল ডিম, সেটা সোজা প্রাক্তন মন্ত্রীর কপালে লেগে ফাটল। মাথা থেকে মুখ- পুরো ডিমে মাখামাখি। মঙ্গলবার কৃষ্ণনগরে নিজের বাড়িতে এমন ঘটনার মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। কেন এমন ক্ষোভ? অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ দিন বাড়িতে লুকোনো সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাচার করছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক। অভিযোগ, এ দিন ত্রাণ পাচারের সময়ে সেটা হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে কৃষ্ণনগর কাঠুরিয়া পাড়ায় উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ির সামনে একটি গাড়িতে সরকারি ত্রিপল তোলা হচ্ছিল। তখন সেটা নজরে পড়তেই ভিড় জমে যায়। বাসিন্দাদের একাংশ চড়াও হন প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে। অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখা যায় বস্তা বস্তা কম্বল, সাদা থান, কাপড় এবং ত্রিপল রয়েছে। যদিও প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, ইদের আগে এই সব সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এসেছে সাধারণ মানুষের জন্য। কিছু দেওয়া হলেও বাকি সব দেওয়া হয়নি। যদিও সেই কথা বিশ্বাস করেননি স্থানীয়রা। উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে জমায়েত করে এই ঘটনার কৈফিয়ত দাবি করতে থাকেন তাঁরা। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তারপরে প্রাক্তন মন্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর উদ্দেশে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দিতে দেখা গিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতার একাংশকে। পুলিশ সূত্রের খবর, আপাতত উজ্জ্বল বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। প্রথমে পুলিশ তাঁকে আটক করে, তারপরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফের থানায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে।
এ দিন এক মহিলার উপরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। যখন উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন সাধারণ বাসিন্দাদের একাংশ, সেই সময়েই উজ্জ্বলের এক পরিচিত মারমুখী জনতাকে শান্ত হতে বলেন। উজ্জ্বল বিশ্বাসের বক্তব্য শোনার জন্য বলেন, সেই সময়ে তাঁর উপরেও হামলা করেন কিছু মহিলা, মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। সেই মহিলার দাবি কিনি কোনওদিন কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁকেও উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।