আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তাঁর নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছিল আগেই। সেই নিয়ে ক্ষোভে মন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মেরেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকী হেনস্থাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। খবর পেয়েই তাঁকে কোনও রকমে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল থানায়। সেখানেই জিজ্ঞাসাবাদের পরে মঙ্গলবার রাতে প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
ত্রাণের সামগ্রী কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হল নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় প্রথমে পুলিশ উজ্জ্বল বিশ্বাসকে আটক করে করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালায়। প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্তের স্বার্থে পরে বাড়িতে বিস্তারিত তল্লাশি শুরু হয়। সেই সময় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার দাবি উঠে আসে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। মন্ত্রীকে ঘিরে চোর চোর স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বিক্ষোভকারীদের সামাল দিতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। একসময় এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ত্রাণ সামগ্রীর উৎস এবং সেগুলি কীভাবে সেখানে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে , এরপর কোন সদূ উত্তর না মিলায় অবশেষে পুলিশ থাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী সংক্রান্ত এই অভিযোগ ও পুলিশি অভিযানের জেরে মঙ্গলবার দুপুরে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কার্যত রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।