দিনের পর দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। প্রবল গ্রীষ্মের দাপটে শুকিয়ে যাচ্ছে চারপাশের বিভিন্ন জলাশয়। গভীর জঙ্গলে হয়ত খাদ্যের খুব একটা অভাব নেই, কিন্তু তীব্র হয়ে পড়ছে পানীয় জলের হাহাকার। এই প্রবল গরমে জঙ্গলের ছোট ছোট পাখি, কাঠবেড়ালি বা অন্যান্য বন্য প্রাণীদের জলের অভাব মেটাতে মহৎ উদ্যোগ নিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদার দেউলির বাসিন্দা ওই শিক্ষকের নাম সুপর্ণ সাহু। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুপর্ণবাবু নিজের উদ্যোগে এবং সামান্য কিছু টাকা খরচ করে পাখি কিংবা কাঠবেড়ালিদের মত ছোট প্রাণীদের জন্য তৈরি করেছেন জল ও খাবার রাখার বিশেষ পাত্র। জানা গিয়েছে, এক বন্ধুর দোকান থেকে তিনি বেশ কয়েকটি বাতিল টিনের ডাব্বা সংগ্রহ করে আনেন। এরপর সেই টিনের ডাব্বাগুলি কেটে নিজের হাতেই তৈরি করেছেন এই পরিবেশবান্ধব পাত্র।
ইতিমধ্যেই নারায়ণগড়ের আহারমুন্ডা সহ এলাকার একাধিক গ্রামীণ জঙ্গলে গাছের ডালে সেই পাত্রগুলি তিনি সযত্নে টাঙিয়ে দিয়েছেন। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে নিয়মিত সেখানে গিয়ে পাত্রগুলিতে খাবার আর জল ভরে দেন তিনি। এই কাজে তিনি একা নন, কখনও কখনও গ্রামের বেশ কিছু ছোট ছোট ছেলেমেয়েও তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। কাঠফাটা রোদে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন গাছের ডালে ঝোলানো এই জলের পাত্রগুলিই ছোট প্রাণীদের কাছে হয়ে উঠেছে বাঁচার প্রধান রসদ।
তৃষ্ণায় কোনও প্রাণী যাতে কষ্ট না পায়, সেটাই সুপর্ণবাবুর মূল লক্ষ্য। পরিবেশদরদী এই শিক্ষকের দাবি, এই প্রবল গরমের সময় প্রতিটি মানুষের উচিত বন্যপ্রাণীদের পাশে দাঁড়ানো। বিভিন্ন জঙ্গল, গাছের ডাল এমনকী নিজের বাড়ির ছাদেও যদি ছোট ছোট পাখিদের জন্য এমন জলের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই গরমের সময় তৃষ্ণার্ত প্রাণীরা সহজেই প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ পাবে। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। শুধু শিক্ষকতা নয়, একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের সমাজে মানুষের মত করে মানুষ করেন, তেমনই সমাজের প্রতি ভাবনা গোটা সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত।