বাড়ির ছাদে পদ্মের মেলা বসিয়েছেন যুবক, ফুলের বাহার দেখলে ফিরে আসতে মন চাইবে না
News18 বাংলা | ১০ জুন ২০২৬
ছোটবেলা থেকেই ফুলের প্রতি ছিল অগাধ টান। সেই ভালবাসাকেই স্বপ্নে রূপ দিয়ে আজ সকলের নজর কাড়ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর এক তরুণ। তাঁর নাম উৎসব ঢালি। বাড়ির ছাদকে তিনি পরিণত করেছেন এক অনন্য পদ্ম উদ্যানের রূপে, যেখানে ফুটে রয়েছে ৪২ প্রজাতির দেশি ও বিদেশি পদ্ম। রঙ, বৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্যে ভরপুর এই ছাদবাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। কারও কথায়, “ছাদজুড়ে যেন স্বর্গ”, আবার কেউ বলছেন, “এ যেন এক জীবন্ত ফুলের রাজ্য”। পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মেড়তলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা উৎসব ঢালি। সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে উৎসব বিএ পাশ করার পর বর্তমানে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ভালবাসার জায়গাটিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আর সেই ভালবাসার কেন্দ্রবিন্দু হল পদ্ম ফুল। উৎসব জানান, সামাজিক মাধ্যমে এক পদ্মচাষীর কাজ দেখে তিনি প্রথম অনুপ্রাণিত হন। এরপর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাদে পদ্ম চাষের খুঁটিনাটি শেখেন। পাশাপাশি ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও থেকেও সংগ্রহ করেন প্রয়োজনীয় তথ্য। ধীরে ধীরে শুরু হয় তাঁর স্বপ্নপূরণের পথচলা। উৎসব বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে প্রথম আমি এক পদ্ম চাষির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারপর তাঁর পরামর্শ এবং নিজের চেষ্টায় এই চাষ শুরু করি। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই চাষ খুবই উপযোগী। এতে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না এবং পরিচর্যাও তুলনামূলকভাবে কম।” উৎসবের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল নয়। বাবা স্বপন ঢালি একজন ক্ষুদ্র কৃষক এবং মা প্রভাতি ঢালি গৃহবধূ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই ছেলের স্বপ্নকে সমর্থন করেছেন তাঁরা।
কলকাতা ও উত্তর দিনাজপুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পদ্মের বীজ সংগ্রহ করে উৎসব শুরু করেন তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ। গামলা ও জলাধারেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক বর্ণময় পদ্মবাগান। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ৪২ প্রজাতির পদ্ম। লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপি ও সবুজ রঙের নানা বাহারি ফুলে সেজে উঠেছে পুরো ছাদ। দেশীয় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে সিতারা, ঐশ্বর্য, শ্বেতা, মোহনা এবং বাটার মিল্ক। পাশাপাশি থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বিরল প্রজাতির পদ্মও চাষ করছেন তিনি। বিদেশি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে অদিতি, রেড পেঙ্গুইন, জুলিয়েট, ডিলান, রেড অ্যামিটি এবং সরস্বতীর মতো আকর্ষণীয় ও দুর্লভ পদ্ম।
উৎসবের এই সাফল্যে খুশি তাঁর পরিবারও। মা প্রভাতি ঢালি বলেন, “ও সারাদিন এই ফুলগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আবার পড়াশোনাও করে। পদ্ম ফুল ও খুব ভালবাসে। আমরাও খুব আনন্দ পাই। দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এই বাগান দেখতে আসেন।” শুধু শখের বাগান নয়, উৎসবের এই উদ্যোগ আজ অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। সীমিত জায়গা, সীমিত সামর্থ্য এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করা যায়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ পূর্বস্থলীর এই তরুণ। তাঁর ছাদের পদ্মবাগান যেন প্রমাণ করে স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে ছোট্ট একটি ছাদও হয়ে উঠতে পারে এক টুকরো স্বর্গ!