এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মূল ইস্যু ছিল, অনুপ্রবেশ। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস। এমনই অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এবার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফের ডিজিকে ডেকে নবান্নে বৈঠক করেন। সেখান থেকেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করেন তিনি। কিন্তু তারপরও কি ঝুঁকি কমেছে? উঠছে প্রশ্ন। তবে বিজেপি সরকার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। আর তাই এবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি করবে এআই এবং সাইবার ডোমেইন ভিত্তিক রোবট।
এদিকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আইএসআর কিউয়ার্ড কপ্টার ড্রোন ব্যবহার করা হবে। গোয়েন্দা সূত্রে এই তথ্যই মিলেছে। জমি মিলতেই সেখানে কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর। আর সেইসব এলাকায় এবার নজরদারি চালাতে বিএসএফ ফেসিয়াল-আইবল স্ক্যানিং প্রযুক্তি থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইএসআর কিউয়ার্ড কপ্টার ড্রোনের ব্যবহার শুরু করেছে। এতে নজরদারি বাড়ানো যাবে। ঠেকানো যাবে অনুপ্রবেশ।
অন্যদিকে এআই-ভিত্তিক সাইবার ডোমেইন রোবটিক ব্যবহার করে সীমান্তে চোরাচালান রোখা এবং নিশ্ছিদ্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এমনটাই মনে করছেন বিএসএফ জওয়ানরা। মঙ্গলবার দিল্লিতে চলা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে দ্বিবার্ষিক বৈঠক হয। বাংলাদেশে বিএনপি নতুন সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম বৈঠক। এখানে মূল অ্যা জেন্ডা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানো নিয়ে উত্তেজনা, অনুপ্রবেশ এবং ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত নেওয়ার বিষয়। কদিন আগেই ফেরত পাঠানো নিয়ে সমস্যা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ বলে অভিযোগ। তাই এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাছাড়া স্মার্ট ফেন্সিং টেকনোলজি সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছে বিএসএফ। বিএসএফ ফেসিয়াল-আইবল স্ক্যানিং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইএসআর কিউয়ার্ড কপ্টার ড্রোন ব্যবহার করে কাজ চলছে। এবার এআই এবং সাইবার ডোমেইন ভিত্তিক রোবট নামিয়ে সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এআই এবং কম্পিউটার ভিশন ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়বে ছবি ও ভিডিও। তারপর এআই অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে সবটা সামনে নিয়ে আসা হবে। ইনফ্রারেড এবং রাডার প্রযুক্তি থাকায় সবসময় কাজ চলবে। ফাইবার অপটিক সেন্সর থাকবে মাটির তলায়। ইনফ্রারেড লেজার বসিয়ে কাজ করা হবে। তার ফলে কম্পন টের পেলেই সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে তা সংকেত পাঠাবে। রোবট অথবা ড্রোন থেকে অন্য ড্রোন ও ক্যামেরা নিজে থেকেই অনুপ্রবেশকারীর লোকেশন নিশ্চিত করবে।