‘ডান-বাঁ হাতে কামাতেন’, তৃণমূল নেতার নামের সার্থকতা বোঝালেন মন্ত্রী শারদ্বত
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১০ জুন ২০২৬
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হতে শুরু করেছে। অতীতের অপরাধের জেরে মানুষ সাহস করে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করছেন। আর তার জেরে জেলে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী থেকে হেভিওয়েট নেতারা। সেখানে সুজিত বসু থেকে শুরু করে স্বরূপ বিশ্বাস, সব্যসাচী দত্ত-সহ অনেকেই এখন জেলে বন্দি রয়েছেন। এমনকী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে সরে যাওয়া জাহাঙ্গির খানও এখন পুলিশের জালে। এই আবহে সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে বড় কথা বললেন বিজেপির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
এদিকে মঙ্গলবার সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে আদালতে যাওয়ার পথে ডিম-গোবর-টমেটো ছোঁড়া হয়। এমনকী আদালত থেকে বের করে নিয়ে আসার সময়ও ডিম ছোঁড়া হয়। তার সঙ্গে ছিল চোর-চোর স্লোগান। তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেতা সম্পর্কে বিধায়ক বলেন, ‘সব্যসাচী নাম। ডান হাতেও কামাতেন, বাঁ হাতেও কামাতেন। এরকম ভাল একটা নাম মা-বাবা রেখেছিলেন ভাবুন। অনন্য, এরকম খুঁজে পাওয়া যায় না।’ সব্যসাচী নামের অর্থ-যার দু-হাত সমান চলে। আর সব্যসাচী দু-হাতে কামিয়েছেন বলে নামের সার্থকতা বোঝালেন মন্ত্রী শারদ্বত।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে একবার বিজেপিতেও গিয়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। পরে বিধানসভা নির্বাচনের পর ফিরে আসেন। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন সব্যসাচী। বারাসত থেকে হেরে যান তিনি। কিন্তু তোলাবাজির অভিযোগে গতকাল বেশি রাতে গ্রেপ্তার করা হয় সব্যসাচীকে। ২০১৮ সালে সব্যসাচী দত্ত বিধাননগরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
তাছাড়া ওই টাকা চেয়ে পাওয়াও যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। তাই ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার বেশি রাতে আটক করা হয় সব্যসাচী দত্তকে। তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। কথায় অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে আটদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই নিয়ে সব্যসাচীর সাফাই, তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। সব অভিযোগ ভুয়ো। এবার সব্যসাচীকে পাল্টা দিয়ে মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের খোঁচা, ‘সব অভিযোগ ভুয়ো। আর ওনারা ধোয়া তুলসীপাতা। বাকি সব ভুয়ো। টিএমসি মানে তৃণমূল মাফিয়া ক্লাব। চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা।’