• অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার সঙ্গে প্রতিবাদীদের সংঘর্ষে নিহত ১১, ‘রাষ্ট্রীয় নৃশংসতা’, তীব্র নিন্দা দিল্লির
    প্রতিদিন | ১০ জুন ২০২৬
  • অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার রাওয়ালকোটে পাক সেনার সঙ্গে প্রতিবাদীদের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। এই ঘটনার নিন্দা করল ভারত। এক বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের চরম দমন-পীড়নের খবর মিলেছে, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এই ‘রাষ্ট্রীয় নৃশংসতা’র তীব্র নিন্দা জানাই।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ” খবর মিলেছে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশ চরম দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আশা করি পাকিস্তানের এই অপকর্ম ও অপব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জবাবদিহি চাইবে।” রণধীর যোগ করেন, “এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা।”

    উল্লেখ্য, আগামী ২৭ জুলাই অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন করাচ্ছে পাক সরকার। সেই নির্বাচনের ফল সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে এই আশঙ্কায় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে সেনা। নিষিদ্ধ করা হয়েছে নাগরিক সমাজের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিন জেএসি। তবে তার আগেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

    রাওয়ালকোটের এক সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এখানে রাখা ছিল পুলিশের গুলিতে মৃত এক সমাজকর্মীর দেহ। শান্তিপূর্ণ সেই জমায়েতেই হামলার অভিযোগ ওঠে পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশের বিরুদ্ধে। পালটা পুলিশের উপর আক্রমণ করে ক্ষুব্ধ জনতা। এই খণ্ডযুদ্ধে ৪ নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি ৬ সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়। ১১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন।

    অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার নিয়েছে যে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং কানাডার মতো প্রথম সারির দেশগুলি তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জানা যাচ্ছে, গোটা ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অপব্যবহারের জেরে। এই অঞ্চলের জনপ্রিয় সংগঠন হল নাগরিক সমাজের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। এরা যাতে নির্বাচনে লড়তে না পারে তার জন্য সরকার এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে। এতেই ফুঁসে উঠেছে জনতা। জানা যাচ্ছে, সেনার সঙ্গে সংঘর্ষের পর ওই সেনা হাসপাতালের দখল নিয়েছে জনতা।

    এরই মাঝে মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে জেএএসি-র ডাকা বনধ। এরই অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা ভীম্বর থেকে একটি ‘দীর্ঘ পদযাত্রা’ শুরু করবে। এই পদযাত্রাটি মিরপুর, কোটলি ও পুঞ্চের ওপর দিয়ে গিয়ে ১০ জুন মুজাফফরাবাদে পৌঁছাবে, যেখানে বিধানসভার বাইরে ধর্মঘটে বসা হবে। এই কর্মসূচি আটকাতে কড়া পদক্ষেপ করছে পাকিস্তান সেনা। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনও মিছিল হতে দেওয়া হবে না। এখনও পর্যন্ত ২০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বনধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)