রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে আর পার্টি অফিস নয়, দরজা বন্ধ করলেন পার্থ ভৌমিক, দিল্লিতেও ঠাঁইনাড়া তৃণমূল!
প্রতিদিন | ১০ জুন ২০২৬
সংসদীয় ও পরিষদীয় দল ভেঙেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। সংঘাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক, সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ আপাতত ত্যাগ করেছেন। তৃণমূলের দলীয় প্রতীকও আগামী দিনে মমতার কাছে থাকবে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে। এই আবহে দিল্লিতেও ধাক্কা খেলেন মমতা ও অভিষেক! এবার রাজধানীতেও তৃণমূলের কার্যালয় বন্ধ হচ্ছে! বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে এখন কাকলি ঘোষ দস্তিদার শিবিরে। আর তিনিই এই মুহূর্তে মমতা ও অভিষেকের জন্য ওই দরজা বন্ধ করলেন। সূত্রের খবর, পার্থ ভৌমিক ঘরোয়া আলোচনায় সাফ জানিয়েছেন, ওই সরকারি বাসভবন আর তৃণমূলকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
কলকাতায় তৃণমূল ভবন ভাড়া দিয়েছিলেন মন্টু সাহা নামে এক ব্যবসায়ী। রাজ্যের পালাবদলের পরে ওই বাড়ি ফাঁকা করার জন্য মামলাও করেছেন তিনি। তৃণমূল ভবন এরপর কী হবে? সেই নিয়েও চর্চা চলছে। এই অবস্থায় দিল্লির কার্যালয়ের দরজাও এবার বন্ধ হয়ে গেল তৃণমূলের জন্য! কিন্তু সরকারি বাসভবনে কীভাবে কার্যালয়? ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাড়িটি আদ্যোপান্ত সরকারি। সংসদ ভবনের ঢিল ছোড়া দূরত্বে ওই বাড়ি। বারাকপুরের সাংসদ হওয়ার পর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের ওই বাড়িটি সরকারি বাসভবন হিসেবে পার্থ ভৌমিক পেয়েছিলেন।
পার্থ ভৌমিক যখন দিল্লিতে যেতেন, বেশিরভাগ সময়ই তিনি বঙ্গভবনে থাকতেন। আর দিল্লিতে দলের কাজের জন্য ওই বাড়িটি কার্যত ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সুযোগে ওই বাড়িটি দিল্লির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। ওই বাড়ি থেকেই দিল্লির কর্মকাণ্ড সামলানো হত তৃণমূলের। সাংবাদিক বৈঠকও হত সেখানে। কিন্তু এই মুহূর্তে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোরালো। সাংসদ, বিধায়করা ‘আসল তৃণমূল’ তৈরি করেছেন। বিদ্রোহী শিবিরে পার্থ ভৌমিকও রয়েছেন। ওই সরকারি বাড়ি আর তৃণমূল কংগ্রেস ব্যবহার করতে পারবে না। সেই কথাই চর্চায় উঠে এসেছে। দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর অনাস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্থ। সেই কারণেই সরকারি বাসভবন পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সেই কথাও সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনায় পার্থ ভৌমিক জানিয়েছেন বলে খবর।