ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি চালাবে এআই এবং সাইবার ডোমেইন ভিত্তিক রোবট! অনুপ্রবেশ রুখবে আইএসআর কিউয়ার্ড কপ্টার ড্রোন! গোয়েন্দা সূত্রে এমনই আভাস মিলেছে। ইতিমধ্যে কাঁটাতার বসানো এলাকায় নজরদারি বাড়াতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ফেসিয়াল-আইবল স্ক্যানিং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইএসআর কিউয়ার্ড কপ্টার ড্রোনের ব্যাবহার শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, এর পাশাপাশি এআই-ভিত্তিক সাইবার ডোমেইন রোবটিক সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ও চোরাচালান প্রতিরোধের কাজও চলছে। এদিকে মঙ্গলবার দিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মধ্যে দ্বিবার্ষিক সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নতুন সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম বৈঠক। এখানেও গুরুত্ব পেতে চলেছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানো নিয়ে উত্তেজনা, অনুপ্রবেশ এবং ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের ফেরতের মতো বিষয়।
কিন্তু সীমান্তে কাঁটাতার বেড়া দেওয়া নিয়ে ভারতের বিএসএফ ও বাংলাদেশ বিজিবি-র মধ্যে বিতর্ক, বৈঠক ও উত্তেজনা চললেও বেআইনি অনুপ্রবেশ স্থায়ী সমাধানের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এখন শুধু কাঁটাতার বেড়া নয়, স্মার্ট ফেন্সিং টেকনোলজি দ্রুত সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছে বিএসএফ। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের তিন রাজ্য ত্রিপুরা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে কাঁটাতারের বেড়ার এলাকায় বিএসএফ ফেসিয়াল-আইবল স্ক্যানিং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইএসআর কিউয়ার্ড কপ্টার ড্রোন ব্যাবহার শুরু করেছে। ফলে সীমান্তে নজরদারি অনেক বেশি আঁটসাঁট এবং নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র হয়েছে। সীমান্তে যে কোনও প্রাণীর গতিবিধি খুব সহজে বিএসএফের নজরে পড়ছে।
এছাড়াও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এআই এবং সাইবার ডোমেইন ভিত্তিক রোবটের সাহায্যে সীমান্তে নজরদারির কাজও শুরু হয়েছে। এখন থেকে সীমান্তে চাকা অথবা পায়ে চলাচলে সক্ষম রোবট টহল দেবে। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও সেগুলো কাজ করবে। স্বয়ংক্রিয় ড্রোনগুলো সীমান্ত এলাকায় আকাশ থেকে পুরো অঞ্চলের রিয়েল টাইম ভিডিও এবং থার্মাল ইমেজ সরবরাহ করবে। এআই এবং কম্পিউটার ভিশন ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি ও ভিডিও এআই অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে মানুষ, গাড়ি অথবা পশুর পার্থক্য করবে। ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীর মুখমণ্ডল বিশ্লেষণ করে আগে থেকে ডাটাবেজে থাকা অপরাধীদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ইনফ্রারেড এবং রাডার প্রযুক্তির জন্য কুয়াশা, বৃষ্টি অথবা রাতেও সিস্টেম নিখুঁতভাবে কাজ করবে।
সীমান্তে মাটির নিচে থাকবে ফাইবার অপটিক সেন্সর। বসানো হচ্ছে ইনফ্রারেড লেজার। মানুষের পায়ের চাপ অথবা কম্পন টের পেলেই সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে সেটা সংকেত পাঠাবে। একবার কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি অথবা যানবাহন শনাক্ত হলে, এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতিবিধি ট্র্যাক করবে। এছাড়াও একটি রোবট অথবা ড্রোন থেকে অন্য ড্রোন ও ক্যামেরা নিজে থেকেই অনুপ্রবেশকারীর লোকেশন নিশ্চিত করবে। সীমান্তের প্রতিটি রোবট, ড্রোন এবং সেন্সর সুরক্ষিত সাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের বিজিবি ভারতের ‘ডিটেক্ট অ্যান্ড ডিপোর্টেশন’ নীতিকে জোরজবরদস্তি ‘পুশ ইন’ দাবি করে ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত নিতে অস্বীকার করছে। অপরাধ আড়াল করতে অদ্ভুতভাবে সীমান্তে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইএসআর ড্রোন ব্যাবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু লাভ হবে না। কারণ, ভারত চাইছে সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান সমস্যার স্থায়ী সমাধান।