দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা, দেবস্মিতা পালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, কোটি টাকার সম্পত্তির লোভেই এই খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিযুক্ত ভাড়াটে দম্পতি এবং তাদের নাবালক ছেলেকে গ্রেপ্তার ও আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মাস্ক পরে ভাড়া গাড়িতে করে এসে সিঁড়ি দিয়ে তারা উপরে উঠেছিল। আর তার পরে জল খাওয়ার অছিলায় ঢুকেছিল দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকায় অবস্থিত সত্যম অ্যাপার্টমেন্টস আবাসনে সহকারী অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
তদন্তকারীদের দাবি, গত বুধবার একটি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে অভিযুক্ত রামপ্রসাদ দাস, তার স্ত্রী বনশ্রী দাস এবং তাদের নাবালক ছেলে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে এসেছিল। CCTV ক্যামেরা এড়াতে তারা মুখে মাস্ক পরেছিল এবং লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করে ষষ্ঠ তলায় উঠেছিল।
তারা পূর্বপরিচিত বলে সহকারী অধ্যাপিকা তাদের ঘরে ঢুকতে দেন। তারা জল খেতে চায়, দেবস্মিতা তাদের জল দিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, তৃষ্ণা মেটানোর পরেই আচমকা ব্যাকপ্যাক থেকে একটি নোড়া বের করে দেবস্মিতার মাথায় আঘাত করে রামপ্রসাদ।
তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ক্ষুর দিয়ে তাঁর হাতের শিরা কেটে দেয় বনশ্রী। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে, রক্তমাখা জামাকাপড় বদলে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয় তারা। পরে দেবস্মিতার বোন দেবারতি বারবার ফোন করে দিদির সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঢুকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছিলেন।
কিন্তু কেন এই নৃশংস হত্যা? পুলিশ আধিকারিকদের একাংশের অনুমান, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ। বর্ধমানে দেবস্মিতার একটি পৈতৃক বাড়ি রয়েছে। দাদুর কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সেই বাড়িটি পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে সেই বাড়িটির বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
ওই বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটে হিসেবে থাকত অভিযুক্ত দাস পরিবার। তারা বাড়িটি কিনে নিতে চাইলেও সহকারী অধ্যাপিকা তা বিক্রি করতে রাজি হননি। উল্টে তাদের বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ ও বাড়িটির উপর লোভ থেকেই এই খুনের নীল-নকশা তৈরি করেছিল তারা বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পরে আবাসনের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই প্রাইভেট গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ বাংলায় যৌথ তল্লাশি চালায়। অবশেষে বর্ধমান থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (৮ জুন) তাদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। দিল্লি পুলিশ ট্রানজ়িট রিমান্ডে তাদের দিল্লিতে নিয়ে এসেছে। অভিযুক্তদের বর্ধমানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে খুনের অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। শিবাজি কলেজ কর্তৃপক্ষ এই নৃশংস ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে দেবস্মিতার মৃত্যুকে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলেছে।