চোখমুখ থমথমে। নিজে হাতেই দোকানের ছাদ খুলে ফেলছেন। জিনিসপত্র সরিয়ে ব্যাগে ভরছেন একে এক করে। উচ্ছেদের আগে ব্যস্ত হাতে ডালা, গুমটি, দোকান সরাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার সকালে এমন দৃশ্য ধরা পড়ল শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার বিড়া স্টেশনে। উচ্ছেদের নোটিস এসেছে। তাই বুলডোজ়ার নামার আগে যতটুকু বাঁচানো যায়, সেই চেষ্টাই করছেন দোকানিরা।
রেল কর্তৃপক্ষের তরফে নোটিস জারি করা হয়েছিল আগেই। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ৯ জুনের মধ্যে রেলের জায়গায় থাকা সমস্ত অবৈধ দোকান সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে ১০ জুন শুরু হবে উচ্ছেদ অভিযান। নোটিস পাওয়ার পরেই মাথায় হাত পড়ে গিয়েছিল দোকানিদের। এখন কী হবে? শিয়ালদহ, হাওড়া, দমদম স্টেশনে উচ্ছেদের খবর তারা পেয়েছেন। রবিবার রাতে যাদবপুরের অভিযানের ঘটনাও তাঁরা জানেন। তাই আর কোনও ঝুঁকি নেননি।
সোমবার রাতেই স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমিতে থাকা অবৈধ দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সংস্থা। তার পরেই এ দিন সকাল থেকে দোকান, গুমটি, ডালা সরানোর কাজ শুরু করেন তাঁরা। কেউ নিজে হাতে দোকানের টিনের শেড, বাঁশ, টালির চাল খুললেন। কেউ আবার ভাড়া করে আনলেন শ্রমিকদের। দক্ষ হাতে কাজ করলেন তাঁরা। বিকেলের মধ্যে মোটামুটি গোটা এলাকাই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে স্টেশন সংলগ্ন চত্বর অনেকটাই দখলমুক্ত। তবে দীর্ঘদিনের দোকানপাট আর রুটিরুজি হারিয়ে মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে ব্যবসায়ীদের। এখন তাঁদের একটাই চিন্তা, এ বার কী হবে? কোথায় ব্যবসা করবেন? নিজেরাও জানেন না এর উত্তর।
হাওড়া, শিয়ালদহ এবং দমদম স্টেশনেও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। অস্থায়ী ঝুপড়ি, গুমটি, ছোট দোকান, ডালা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে রাতারাতি এমন উচ্ছেদে ব্যবসায়ী এবং দোকানদাররা বিপাকে পড়েছেন বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেঘর করে দেওয়া হলো। এ বার তাঁদের সংসার কী ভাবে চলবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। তবে আর এক অংশের দাবি, রেল বা সরকারের জমি দখল করে ব্যবসা করাই বেআইনি। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও পদক্ষেপই বৈধ।