• উত্তরবঙ্গে বর্ষার প্রবেশ, দক্ষিণে কি পথ প্রশস্ত!
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • এই সময়: কেরালায় বর্ষার আগমন নিয়ে পূর্বাভাস একাধিকবার ‘ফেল’ করেছে এ বার। তবে ৪ জুন কেরালা দিয়ে দেশের মাটিতে বর্ষা প্রবেশ করার পাঁচ দিনের মাথায় ৯ জুন, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ দিয়ে বাংলার মাটিতে পা রাখল দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাস। মঙ্গলবার বিকেলে মৌসম ভবন জানিয়েছে, সমগ্র কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলা, জলপাইগুড়ি জেলার বেশিরভাগ অংশ এবং দার্জিলিংয়ের কিছু অংশ পুরোপুরি বর্ষার দখলে চলে গিয়েছে।

    একই সঙ্গে আবহবিদরা জানাচ্ছেন, সামনের ৪-৫ দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরও কিছুটা অগ্রগতির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি। এর ফলে বঙ্গোপসাগরের আরও কিছুটা অংশ, পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার কিছুটা অংশে বর্ষা প্রবেশ করার সম্ভাবনা খুব বেশি।

    কেরালা দিয়ে ভারতে দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই সাধারণত উত্তরবঙ্গে বর্ষা নেমে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উত্তরবঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা ঢুকে পড়ার পর থেকেই নজর থাকে দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলায় কবে বর্ষা নামবে, সে দিকে। তবে আবহবিদরা বলছেন, জলীয় বাষ্পে পরিপূর্ণ দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাসের উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণে নামার কাজটি খুব সহজে হয় না। এর অন্যতম কারণ হলো, বর্ষার বাতাস দেশে ঢোকার কয়েকদিন পরেই প্রাথমিক ভাবে কিছুটা গতি হারায়। এই কারণেই কেরালায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরে উত্তরবঙ্গে বর্ষা শুরু হতে যতদিন সময় লাগে, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণে বর্ষা নামতে তার চেয়ে বেশি সময় লেগে যায়।

    হাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বর্ষা শুরু হয়েছে ১২ জুন (২০২০)। সে বছর উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে একই দিনে বর্ষা নেমেছিল। আর দক্ষিণে সবচেয়ে দেরিতে বর্ষা ঢুকেছিল ২১ জুন (২০২৪)। সে বছর উত্তরবঙ্গে বর্ষা নেমেছিল ৩১ মে — ২২ দিন আগে। তবে আবহবিদদের ইঙ্গিত, আপাতত মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির পথ পরিষ্কার। তাই সামনের কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা নামার সম্ভাবনা যথেষ্টই।

    উত্তরবঙ্গে টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টির (৭–১১ সেমি) হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আজ বুধবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি এবং উত্তরবঙ্গের বাকি সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাবে। আগামিকাল, বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ দিন উত্তরবঙ্গের বাকি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্র ও শনিবারও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ দিনও উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলোয় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের পূর্বাভাস রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)