• বঙ্গে উন্নয়নের জন্য সেতুবন্ধন শুভেন্দুর, উন্নয়নের মঞ্চে কথা বলার স্বাধীনতা পেলেন বিরোধীরা
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • এই সময়: মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই বিরোধীদের সম্মান দেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারই ফলশ্রুতিতে জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে তিনি আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন বিরোধী দলের সাংসদ–বিধায়কদের। মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্যে খুশি বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিরাও। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হয়ে সেই অভিব্যক্তি চেপে রাখেননি তাঁরা।

    সূত্রের খবর, বৈঠকের মধ্যেই বিরোধী শিবিরের অনেকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এ দিন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলে‍ন, ‘বিরোধীদের একজন সাংসদ তো প্রশাসনিক বৈঠকের মধ্যে বলেই দিলে‍ন আপনারা আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছে‍ন। তাই আজ মন খুলে কথা বলছি।’

    ওই সাংসদ উন্নয়ন সংক্রান্ত ভালো ভালো কিছু প্রস্তাব বৈঠকে দিয়েছেন বলেও মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন। এর আগে প্রথমে উত্তরবঙ্গ তারপর নবান্নে ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকেও বিরোধী দলের বিধায়করা অংশ নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এ বার তাঁর নিজের জেলার বৈঠকেও অংশ নিয়ে বিরোধী বিধায়ক–সাংসদরা বুঝিয়ে দিয়েছেন উন্নয়নের প্রশ্নে তাঁরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে রয়েছেন।

    ঘাটা‍ল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এ দিন তৃণমূল সাংসদ দেবের সঙ্গে কথা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেই আলোচনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেই মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ‘উন্নয়নের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। যাঁরা উন্নয়নের বাইরে থাকবে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’ এ দিনের বৈঠকে কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা, খড়্গপুর গ্রামীণের তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায় ছাড়াও তৃণমূলের দুই সাংসদ দেব এবং জুন মালিয়া হাজির ছিলেন।

    বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইছেন, রাজনৈতিক আকচাআকচি শুধু ভোটের সময়েই হোক, আর গোটা বছর শাসক–বিরোধী হাত ধরাধরি করে উন্নয়নের কাজ করুক। সেই লক্ষ্যপূরণ করতে হলে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির উর্ধ্বে শাসক–বিরোধীর সম্পর্কের উন্নতির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছেন না শুভেন্দু। তাঁর কথাতেই, ‘আজ ৩৫ জন বিধায়ককে ডেকেছিলাম। ৩৫ জনই এসেছিলে‍ন। তাঁদের মধ্যে দু’জন বিরোধী শিবিরের। চার জন সাংসদ ছিলেন। সেখানেও বিরোধী দলের দুই সাংসদ ছিলেন। এই বন্ডিংটাই আমরা তৈরি করতে চাইছি। নির্বাচনের সময়ে রাজনীতি হবে। তর্কাতর্কি হবে। কিন্তু সারা বছর কাজ করতে হবে। বিকাশ করতে হবে।’

    তাঁর আক্ষেপ, ‘আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকারের নানা উন্নয়মূলক কাজ থেকে পিছিয়ে গিয়েছি। নানা পরিকাঠামোগত উ‍ন্নয়নেও পিছিয়ে গিয়েছি। থানাগুলি পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। পঞ্চায়েত অফিসগুলি কাটমানি কালেকশন সেন্টারে পরিণত হয়েছিল।’ এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন কো‍লাঘাটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আইনের শাসন কায়েম করতে হবে। শাসকের আইন না।’

    ২০১৪ সালে ঘাটালের সাংসদ হয়েছিলেন অভিনেতা দেব। তখন থেকেই তিনি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু না‍না জটিলতায় তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। রাজনৈতিক লড়াই দূরে ঠেলে এ দিন কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে দেবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বলে‍ন, ‘ঘাটালের সাংসদ একটা কথাই বৈঠকে বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তাঁর প্রতিশ্রুতি ছিল। আমি ওঁকে বলেছি, এ বারের নির্বাচনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমাদেরও প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা এটা করব। কার ক্রেডিট হবে, সেটা বড় কথা নয়।’

    সৌজন্যের রাজনীতির বার্তা দিয়ে দেবও বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী এই রাজ্যের গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী— এই সত্যিটা তো কেউ অস্বীকার করতে পারে না, এটা আমাদের সবাইকে মানতেই হবে।’ মঙ্গলবারের প্রশাসনিক বৈঠকে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান দেব।

    বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে স্বপ্নের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল, তা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে এ বার সফল ভাবে শেষ হবে বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। উনি আমাকে কথা দিয়েছেন।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘আমি একজন জনপ্রতিনিধি। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ বন্যা। সেই বন্যার সমাধান হলো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ২০১৪ থেকে লড়াই চলছিল। ২০২৪ –এ আমি যখন ভোটে দাঁড়াব না বলেছিলাম, দিদি কথা দিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কথাও রেখেছেন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল।’

  • Link to this news (এই সময়)