• চা শ্রমিকদের উন্নয়নে ৩১৪ কোটির কেন্দ্রীয় অনুদান, আশার আলো বাংলায়
    বর্তমান | ১০ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগের জমানায় জোটেনি। বাংলায় নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের উন্নয়নে কেন্দ্রের থেকে ৩১৪ কোটি টাকা আসার ব্যাপারে আশার আলো দেখছে টি বোর্ড। ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’র আওতায় ওই তহবিল কাজে লাগাতে পারবে বাংলা। মঙ্গলবার চা পর্ষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান সি মুরুগান বলেন, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ওই তহবিলের কথা ঘোষণা করে। মোট এক হাজার টাকা বরাদ্দ হয় প্রকল্পটির জন্য। তিন বছরের ওই স্কিমের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই দু-বছর কেটে গিয়েছে। ওই স্কিমে টাকা আসার ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত, একটি স্টেট লেভেল কমিটি তৈরি করতে হবে। সেখানে চেয়ারম্যান হিসাবে থাকবেন মুখ্যসচিব। চা উৎপাদক জেলাগুলির জেলাশাসকদের পাশাপাশি সেই কমিটিতে এমপি-সহ অন্যদের থাকার কথা। পূর্বতন রাজ্য সরকার ওই কমিটি তৈরি করেনি। ফলে কোনো অনুদান মেলেনি। আগামী একবছরের মধ্যে যাতে ওই টাকা পাওয়া যায়, তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমরা কমিটি তৈরি করেছি। উত্তরবঙ্গে চলতি মাসেই একটি বৈঠক হয়েছে, যেখানে চাবাগানের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ, জেলাশাসক এবং সাংসদদের ডাকা হয়।

    সেখানেই বলা হয়, জেলাশাসক, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিভাগ মিলে একটি রিপোর্ট জমা করবে টাকা খরচের ব্যাপারে। সেই রিপোর্ট জমা পড়বে স্টেট লেভেল কমিটিতে। তারা রিপোর্টে ছাড়পত্র দিলে, তা কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের আওতাভুক্ত স্টিয়ারিং কমিটিতে যাবে। তারপরই সেখান থেকে আর্থিক অনুদান মিলবে। প্রসঙ্গত, এই যোজনায় ১,২০০-র বেশি চা বাগানের ১০ লক্ষ কর্মীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বাসস্থানের জন্য ওই তহবিল খরচ হওয়ার কথা। এই তহবিলের পুরোটাই দেবে কেন্দ্র। এতে রাজ্য সরকারের কোনো টাকা দেওয়ার প্রশ্ন নেই। এরই পাশাপাশি টি বোর্ড কর্তারা জানান, দার্জিলিং চায়ের মানোন্নয়নের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ চেয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করা হয়েছে। নতুন চা গাছ রোপণ, চায়ের প্রচার ও বিপণনের মান বৃদ্ধির জন্য ওই টাকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য, সরকারিভাবে বর্তমানে এরাজ্যে ৯টি চা বাগান বন্ধ থাকলেও, বেসরকারিভাবে সেই সংখ্যা ২২ থেকে ২৫। এই ব্যাপারে রাজ্য শ্রমদপ্তরের কাছে রিপোর্টও পেশ করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)