টলিউডের অভিনেতারা আমার কাছে স্টার নয়: অভিজিৎ ভট্টাচার্য
এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
অভিজিৎ ভট্টাচার্য, গায়ক
অনেক দিন পরে কলম ধরলাম। মনের মধ্যে যা চলছে সেটাই 'এই সময় অনলাইন'-এর পাতায় লিখব। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটা অবশ্যম্ভাবী ছিল। মানুষ এই পরিবর্তন এনেছে। আমরা প্রবাসী বাঙালি। ভৌগলিক দূরত্বের হিসাবে অনেক দূরে থাকি। কিন্তু এত দূরে বসেও অনেক কিছুর আঁচ পেতাম। এখনও পাচ্ছি।
বামফ্রন্ট সরকার ৩৪ বছরে গোটা রাজ্যকে ধ্বংস করেছে। তার পরে এল আরও এক শাসকদল। তারা আবার ভাতার রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত। গরিবদের খিদেতে মারব। তার পর কয়েক কেজি চাল আর মাসের শুরুতে কিছু টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখব। আমি বাংলার ছেলে। এই মাটিতে আমার জন্ম। সেই মাটির পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়তাম। এসব দেখে মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। প্রবাসের কোনও বন্ধু আমাদের রাজ্য নিয়ে হাসিঠাট্টা করলেও, এতদিন চুপ করে শুনে চলে আসতে হতো। কারণ পাল্টা তর্ক করার মতো জায়গা সত্যিই ছিল না।
উচ্চশিক্ষিত লোকেদের বাংলায় কোনও জায়গা-ই ছিল না। গত ১৫ বছরে বিশেষ ভালো কিছু হয়েছে, বলে মনে করছে না। শিল্প আসতে পারেনি এ রাজ্যে। তা হলেই তো কত ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হতো। সেটা হতে দেওয়া হয়নি। বাংলা একেবারে দূষণমুক্ত! কারণ কোনও শিল্প নেই।
পূর্বতন সরকার থেকে আমাকেও বহুবার ডাকা হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি কোনও কিছুতেই রাজি হয়নি। আমি কলকাতায় এসেছি শুধু অনুষ্ঠান করতে। গান গেয়েছি, টাকা পেয়েছি, চলে গিয়েছি। বিনাপয়সায় আমাকে দিয়ে 'সা'-ও বলাতে পারবে না।
টলিউডের অরাজকতা নিয়েও নানা কথা কানে এসেছে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমি টলিউড নিয়ে একেবারেই বিশেষ ভাবি না। টলিউডের অভিনেতারা আমার কাছে স্টার নয়। আর টলিউড ইন্ডাস্ট্রি বলে সত্যিই কিছু অবশিষ্ট নয়। ছবিতে কোরিয়োগ্রাফার আসছে সাউথ থেকে, বলিউড থেকে। বাংলা ছবিতে কোরিয়োগ্রাফার থাকবেই বা কেন? আগের হিরোরা ভাত আর মাছ খেয়ে ফিট থাকত। টলিউড নিয়ে আমার কোনও অ্যাট্রাকশন ছিল না। আমি তো কলকাতায় এসে কখনও স্টুডিয়োর চেহারা দেখেনি। আমাকে দিয়ে যাঁরা গান গাইয়েছেন, তাঁরা বম্বেতে এসে কাজ করিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আমাকে দেব নিজে ফোন করে বলেছে, দাদা তোমাকে এটা গাইতে হবে। যাই হোক এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। রাজ্য এ বার সত্যিকারের উন্নয়ন হোক সেটাই চাইব।