• দুর্নীতি আউট, সুশাসন ইন! বঙ্গবাসীকে আশ্বাস নীতিনের
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি

    শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বিজেপি শাসিত বাংলায় বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মানসিক অবস্থানেরও বদল প্রয়োজন বলে মনে করেন নীতিন নবীন। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র–রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। সেই প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, 'বাংলায় গত পাঁচ দশক ধরে যা হয়েছে, এখন তা চলবে না৷ এখন গোটা দেশের সঙ্গে বাংলা এগোবে, ডাবল ইঞ্জিনের উন্নয়নের গতিতে৷ এখানে দুর্নীতি, অপশাসনের কোনও জায়গা নেই৷ বাম জমানায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে যে ভাবধারায় বাংলা পরিচালিত হয়েছে, এখন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সেই ভাবধারাতেও পরিবর্তন আসবে৷'

    নীতিন স্পষ্ট বলেন, 'দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এখানে শেষ কথা৷ বাংলায় একটা সময়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনই নাগরিকদের প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল৷ এখন সেই ধারণা পাল্টাতে হবে৷ গ্রাম স্তর থেকে জেলা, শহর সর্বত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন স্থাপন করতে হবে বাংলায়৷ রাজ্যের জনতা আমাদের যে শক্তি দিয়েছেন তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের মাধ্যমে, আমরা তার প্রতি যোগ্য সম্মান জানাতে চাই। বাংলার সার্বিক বিকাশ করতে চাই৷'

    গত এক সপ্তাহে কলকাতা থেকে দিল্লি— সব জায়গায় তৃণমূলে ভাঙনের ছবিই এখন জাতীয় রাজনীতিতে চর্চার বিষয়। নীতিন অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই ভাঙনের পিছনে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙছে দলের শীর্ষ স্তরে লাগামহীন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দিশাহীন রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণে৷ বিজেপি শুধু রাজ্যের মানুষের সমর্থনে বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গড়েছে৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, 'তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের উপরে নিয়ন্ত্রণই রাখতে পারেননি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শুধু ক্ষমতা উপভোগ করে গিয়েছেন৷ সাধারণ মানুষের থেকে তাঁরা ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন৷ সর্বস্তরে দুর্নীতিটাই একটা অভ্যেসে পরিণত হয়েছে৷ একনায়কতন্ত্র চলত দলে৷'

    পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তাঁর সংযোজন, 'রাজ্যের মানুষের প্রতি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও দায়বদ্ধতা ছিল না৷ পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীদের সার্বিক বিকাশের জন্য তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও গঠনমূলক পরিকল্পনা ছিল না৷ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যকে সংযুক্ত করা হয়নি৷ শুধু বিরোধিতার জন্যই বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরোধিতা করা হয়েছিল৷' শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার বাংলাকে নতুন দিশায় নিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন নীতিন।

  • Link to this news (এই সময়)