• মোদীর গ্রহণযোগ্যতা নেহরুর চেয়ে বেশি: রামনাথ কোবিন্দ
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • রামনাথ কোবিন্দ

    ভারতের ইতিহাসে ২০২৬–এর ১০ জুন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরুর রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেলেন। ঐতিহাসিক দিক থেকে মোদীর সময়কাল নেহরুর থেকে বেশি, কিন্তু ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরিখেও এই সময়কাল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    মহাত্মা গান্ধী, সর্দার প্যাটেল, বাবাসাহেব আম্বেদকর, রাজেন্দ্র প্রসাদ, সি রাজাগোপালাচারী, কে এম মুন্সির মতো আধুনিক ভারতের স্থপতিরা 'ভারতীয়ত্ব' নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন, মোদী সরকারের নীতির যথেষ্ট মিল রয়েছে। আর্থিক উন্নয়নের জন্য মোদী 'রাজাজি মডেল'–কে অনুসরণ করেছেন।

    অথচ নেহেরুর নীতি ছিল 'নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ'। ফলে কোটা ব্যবস্থা, পারমিট এবং লাইসেন্স রাজের জন্ম হয়। তাই রাজাজি নেহরুর এই নীতির সমালোচনা করতেন। ১৯৪৯–এ ২৫ নভেম্বর আম্বেদকর গণ-পরিষদের সমাপ্তি ভাষণে বলেছিলেন, 'আড়াই হাজার বছর আগে বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। অথচ, দেশের যুবা এবং বিশিষ্টরা মনে করেন আমাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা পশ্চিমা বিশ্ব থেকে অানা হয়েছে।' মোদীও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বলেন, 'ভারত হলো গণতন্ত্রের জননী। যা সব থেকে প্রাচীন, বৃহৎ এবং প্রাণবন্ত।'

    ২০২৪–এর সাধারণ নির্বাচনে ৭৪৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। সেখানে ১৯৫২-র সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল মাত্র ৫৩টি দল। েস দিক থেকে দেখতে গেলে নেহরুর সময়ে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, এখন বহুগুণে বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশাতে মোদীর উপরে মানুষের আস্থাই তাঁর সাফল্যের কারণ। তাই জওহরলাল নেহরুর থেকে মোদীর গ্রহণযোগ্যতা অনেক দিক থেকে বেশি।

    ঔপনিবেশিক শাসকরা হীনমন্যতার যে মনোভাব আমাদের মধ্যে গেঁথে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার অনেক পরেও সেই ভাবনা মানুষের মনের মধ্যে ছিল। এর ফলে ক্ষুদ্র অভিজাত গোষ্ঠী তৈরি হয়। সেই গোষ্ঠীর ধারণা টমাস ব্যাবিংটন মেকলের থেকে এসেছিল। যার ফলে স্বাধীনতার পরে দশকের পর দশক ধরে ইংরেজিকে ক্ষমতার ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা চেষ্টা চলেছে। নেহরুর বা তার পরবর্তী সময়েও এই অভিজাত শ্রেণি ভারতীয় বিভিন্ন বিষয়গুলিকে অপছন্দ করতেন। কিন্তু মোদী ভারতীয় ভাষা, প্রতীক এবং প্রাচীন ভারতীয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জোরদার প্রচার চালানোয় এখন দেশবাসীর মধ্যে ভারতীয়ত্ব গর্ববোধ করেন।

    (লেখক ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি)

  • Link to this news (এই সময়)