ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি দেশের দীর্ঘতম সময় ধরে একটানা দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়লেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেওয়ার পর থেকে টানা ৪,৩৯৯ দিনেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ডও ছাপিয়ে গেলেন।
এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের প্রতিনিধিরা অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদীকে। আন্তর্জাতিক মহলের বার্তাগুলিতে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় মোদীর বিশেষ কৃতিত্বের উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) জারি করা একটি বিবৃতিতে মোদীর নয়া রেকর্ড নিয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। ৮ জুন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়াকা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘এই মাইলফলক কেবল আপনার কার্যকালের বছরগুলোরই প্রমাণ নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ আপনার নেতৃত্বের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস বার বার দেখিয়েছে, এটা তারও প্রমাণ।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni) মোদীর নেতৃত্বকে ‘দূরদর্শী ও প্রভাবশালী’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারত-ইতালি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে মোদীর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কাইরিয়াকোস (Kyriakos Mitsotakis) মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।’ ভারত ও গ্রিসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেশেরিং তোবগে (Tshering Tobgay) মোদীকে ‘বন্ধু ও দূরদর্শী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘ভারতের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মোদীর অবদান অনস্বীকার্য।’ এ ছাড়া পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘নেতৃত্বের এক রোল মডেল ও উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বিশেষভাবে ২০ কোটিরও বেশি ভারতীয়কে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার কৃতিত্বের উল্লেখ করেছেন।
শুভেচ্ছাবার্তার তালিকা এখানেই শেষ নয়। বিশ্বের আরও একাধিক নেতা মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। অনেকেই তাঁকে গ্লোবাল সাউথের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন এবং ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরপর জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছর তিনি ইন্দিরা গান্ধীর একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও অতিক্রম করেছিলেন। এ বার তিনি নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন নজির স্থাপন করলেন। তিনি দেশের প্রথম অ-কংগ্রেসি নেতা যিনি পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
নরেন্দ্র মোদীর ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্থাৎ রেকর্ড উদ্যাপনের জন্য দিল্লির ভারত মণ্ডপমে NDA-র মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী এবং জোটসঙ্গীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১২ বছরের শাসনকাল এবং জোট সরকারের এক বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া তাঁর দীর্ঘতম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উপলক্ষে অভিনন্দন প্রস্তাবও গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিজেপি ও কেন্দ্র সরকার একাধিক সাফল্য তুলে ধরছে। সরকারের দাবি, এই সময়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তার, জিএসটি চালু, প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (DBT), স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণ, নারী কল্যাণ প্রকল্প এবং ভারতের বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এই মাইলফলক এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত বিশ্বের দ্রুততম সমৃদ্ধশালী বৃহৎ অর্থনীতিগুলির অন্যতম। আগামী সপ্তাহে মোদী ক্যানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নিতে চলেছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকাকেই আরও স্পষ্ট করে।