• বিরোধী থেকে শাসক: বিজেপির কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবির
    এই সময় | ১০ জুন ২০২৬
  • এই সময়: বিরোধী শিবির থেকে বিজেপি এখন শাসকপক্ষ। নতুন ভূমিকায় দলীয় কর্মীরা যাতে দ্রুত নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, সে জন্যে জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করতে চলেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। যেখা‍নে সরকার–বিরোধী আন্দোলনে অভ্যস্ত বিজেপি কর্মীদের শেখা‍নো হবে কী ভাবে সরকারের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হয়। আগামী ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাই একমাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শিবির চলবে রাজ্যের সর্বত্র।

    নিজেদের ‘রেজিমেন্টেড’ দল হিসেবেই দাবি করে বিজেপি। তাদের কাছে দলীয় শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বহু বছর ধরেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর দলের নেতা–কর্মীদের দলীয় আদর্শ সম্পর্কে সচেতন করার ব্যবস্থা করে বিজেপি। জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করে বিজেপি নেতা–কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় কোন আদর্শের উপরে দাঁড়িয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জনসঙ্ঘ তৈরি করেছিলেন। জনসঙ্ঘ থেকে কী ভাবে বিজেপি তৈরি হয়েছিল, সেই ইতিহাসও জানানো হয় পদ্মের কর্মশালাগুলিতে। আগামী ২৫ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে সেই রকমই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করতে চলেছে বিজেপি।

    কিন্তু তাতে এ বার জুড়ছে নতুন একটি অধ্যায়। যার নির্যাস—কী ভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলবেন বিজেপি কর্মীরা। দলের শীর্ষ নেতারা ঘনিষ্ঠ মহলে বলছেন, এই চ্যাপ্টারটার উপরেই এ বারের প্রশিক্ষণ শিবিরে সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হবে। কারণ, বাংলায় বিজে‍পি শাসক হিসেবে একেবারেই নতুন। ফলে দলের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় রক্ষা খুব জরুরি। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘চলছে না, চলবে না মনোভাবের পরিবর্তন করতে হবে আমাদের। এতদিন আমরা বিরোধী শিবিরে ছিলাম। ফলে কথায় কথায় কী ভাবে সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে হয়, সেটাই শেখানো হয়েছিল নিচুতলার নেতা–কর্মীদের। এ বার তার পরিবর্তন হবে। শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে সহযোগিতা করা, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের প্রচারের উপরেই জোর দিতে হবে কর্মীদের।’

    আপাত ভাবে এই ‘রূপান্তর’ প্রক্রিয়া সাদামাটা মনে হলেও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া খুব সহজ–সরল নয়। কারণ, জেলাস্তরের সরকারি আধিকারিক এবং পুলিশ–প্রশাসনের বিরুদ্ধে গলা ফাটানোই বহু যুগ ধরে বিজেপি নেতা–কর্মীদের অভ্যাস। সরকারি আধিকারিকদের তালে তাল মেলানো অথবা তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার জন্য প্রশিক্ষণ সে জন্যে অত্যন্ত জরুরি বলেই ব্যাখ্যা গেরুয়া নেতৃত্বের।

    এ ছাড়াও বিজেপি সরকারে আসার পরে দলের অনেক পুরোনো সমর্থক ঝান্ডা হাতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। সমর্থক থেকে তাঁরা অনেকেই এখন সক্রিয় কর্মী। দলের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ত করতে চাইছেন শমীক ভট্টাচার্যরা। প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির মাধ্যমে ওই নতুন কর্মীদের দলের আদর্শ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা হবে। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে কী কী বিষয়ে শেখানো হবে, কারা কোন বিষয়ে শেখাবেন এবং কবে কোথায় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন হবে—সামগ্রিক ভাবে তা চূড়ান্ত করার ভার বর্তেছে রাজ্য বিজেপি নেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে। তাঁর কথায়, ‘দলের ভাবধারা, আদর্শ শেখানো হবে প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে। এর সঙ্গে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও থাকবে। প্রথমে মণ্ডলে পরে জেলায় এবং শেষে রাজ্য নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)