• মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের নতুন 'ব্লক' ঘিরে জল্পনা
    আজকাল | ১০ জুন ২০২৬
  • শ্রেয়সী পাল: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিধানসভার পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলে  ব্যাপক ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলাতেও সেই আঁচ লেগেছে। জেলার মোট ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল মাত্র ৯ টি আসনে। এর মধ্যে আটজন বিধায়ক ইতিমধ্যেই একত্রিত হয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের নতুন 'ব্লকে'। এর পাশাপাশি তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ -মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সাংসদ সহ- ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করার। 

    তবে বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে যে তৃণমূল প্রার্থীরা এবং নেতারা বিজেপিকে ‘মুসলিম বিরোধী’ বলে প্রচার করেছিলেন, এখন তাঁদেরই একাংশ বিজেপির সঙ্গে 'ঘনিষ্ঠতা' বাড়াচ্ছেন। ফলে ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূল বিধায়ক এবং সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান।এরই মধ্যে সোমবার দিল্লিতে তৃণমূল দলের একটি সংসদীয় বৈঠককে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বৈঠকে কুড়িজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ওই বৈঠকে 'আনুষ্ঠানিকভাবে' না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূলের মুখ্যসচেতক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান।

    তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিজেপির সঙ্গে 'ঘনিষ্ঠতা' বাড়ানোর প্রসঙ্গে আখরুজ্জামান বলেন, “আমরা আজও বিজেপি বিরোধী। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করব বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই রাজ্য সরকার যদি উন্নয়নমূলক কাজ করতে চায়, আমরা সব সময় তাকে সমর্থন করব। মানুষের স্বার্থে আঘাত লাগে এমন কোনও নীতি বিরোধী কাজে আমাদের বিরোধিতা থাকবেই । আমরা কখনই বিজেপিকে সমর্থনের কথা বলছি না। কিন্তু মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারকে সাহায্য করব।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কিংবা মিডিয়ার একাংশ অনেক সময় আমাদের বিজেপির দালাল বলে আখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু আমি জনসাধারণকে বলতে চাই, আমাদের তৃণমূল সরকারের আমলে কখনই প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী পক্ষদের ডাকা হতো না। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত দলের বিধায়কদের প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। সেখানে ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষের মতো তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও হাজির হচ্ছেন। তাই প্রশাসনিক বৈঠকে যাওয়া বা কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার মানেই বিজেপিকে সমর্থন করা নয়।”

    দিল্লির বৈঠক প্রসঙ্গে আখরুজ্জামান জানান, “গতকালের সংসদীয় বৈঠকে আমি ছিলাম না। কারণ আমি সংসদীয় দলের অংশ নই। আমি দিল্লি গিয়েছিলাম কারণ আমার এলাকায় গঙ্গা নদীর উপরে একটি সেতু নির্মাণের জন্য ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটের দরকার। সেখানে আমার জেলার দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা হয় এবং তাঁদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও করেছি। পরে তাঁদের অনুরোধে তৃণমূল দলের বিধায়ক হিসেবেই দলের একটি বৈঠকে অংশ নিই। কিন্তু সেখানে কোনও বিজেপি নেতা ছিলেন না, আমিও কোনও বিজেপি নেতার সঙ্গে বৈঠক করিনি।”

    অন্যদিকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করা নিয়ে তৃণমূলের সংসদীয় 'ব্লকের' জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মঙ্গলবার দাবি করলেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খান। তিনি বলেন ,"গতকাল থেকেই কিছু সংবাদমাধ্যম বলে বেড়াচ্ছে আমরা এনডিএ-কে সমর্থন করছি। কিন্তু এই তথ্যের কোনও সত্যতা নেই। আমরা এখন ওই 'লাইনে' যাচ্ছি।  সংসদে আমাদের নতুন ব্লকের ভূমিকা না দেখেই কিছু মানুষ বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। "

    গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন," ভোটের সময় বিজেপি  বিরোধিতার কথা বলে এখন  বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা কারণ কী তার ব্যাখ্যা তো তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাই  দিতে পারবেন। এই বিষয় নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমরা বরং তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের ব্যাখ্যা শুনতে আগ্রহী।"
  • Link to this news (আজকাল)