• আরও বিপাকে TMC-র 'যুবরাজ' অভিষেক, BJP নেতাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে এ বার FIR
    আজ তক | ১০ জুন ২০২৬
  • দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফের রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছে। আরও বিপাকে পড়তে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। এবার প্রবীণ বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড-এর বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালে তাঁর উপর হওয়া হামলার প্রেক্ষিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবিতে FIR দায়ের করেছেন এই বিজেপি নেতা।

    ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ২০২৪ সালে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন অভিজিৎ দাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত চেনা মুখ। সম্প্রতি, ডায়মন্ড হারবার থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর দুপুর ২টো বেজে ৪০ মিনিটে ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাটে স্বস্তিক ভবনের কাছে হামলার শিকার হন তৎকালীন বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি অভিজিৎ দাস। তাঁকে বেধড়ক মারধর ও খুনের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

    অভিজিৎ দাসের দাবি, সেদিন তিনি ও তাঁর কয়েকজন বিজেপি সহকর্মী একটি রাজনৈতিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি সশস্ত্র টিম তাঁদের গাড়ির পথ আটকে দেয়। হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। গাড়ি থেকে টেনে বের করে তাঁদের মারধর করা হয়। অভিজিৎ দাসের দাবি, হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং মাথায় আঘাত পেয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরও কয়েকজন বিজেপি কর্মীও আহত হন। হামলাকারীরা গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।

    ডায়মন্ড হারবারে দায়ের করা অভিযোগে অভিজিৎ দাস দাবি করেছেন, এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। 

    বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা।  এর মধ্যে রয়েছে ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা, মোবাইল টাওয়ারের তথ্য ও কল ডিটেল রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের বয়ান রেকর্ড করার মতো দাবি।

    এদিন অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি, আগের সরকারের আমলে পুলিশি ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। তিনি জানান, ২০১৮ সালে ঘটনার পরপরই চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ও ছবিসহ একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় কোনও সুরাহা তিনি পাননি বলেই দাবি করেছেন বিজেপি নেতা।

    উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের পর থেকেই প্রবল অস্বস্তিতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। তাঁর বাড়ির একটা অংশ ভেঙে ফেলতে নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, সই জালিয়াতি কাণ্ডে বারংবার তাঁকে হাজিরা দিতে বলছে CID, আবার এরমধ্যে যুক্ত হল অভিজিৎ দাসের মামলা। ফলে সব মিলিয়ে চাপ বাড়ল অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের।

     
  • Link to this news (আজ তক)