• ভারতে ফের পোলিওর হানা! গাজিয়াবাদের জলের প্লান্টে ভাইরাসের খোঁজ, সতর্ক স্বাস্থ্যদপ্তর
    প্রতিদিন | ১০ জুন ২০২৬
  • ফের বড় ধাক্কা খেল পোলিও মুক্ত ভারত অভিযান। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি জল শোধনাগারে ভ্যাকসিন ডিরেভড পোলিও ভাইরাস (VDPV) টাইপ ১ শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। শহরের ১২টি অতিসংবেদনশীল এলাকায় শিশুদের পরীক্ষার জন্য ১০৭টি মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে। তাদের পোলিও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    পোলিওমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে প্রতি মাসে শহর ও গ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার (এসটিপি) থেকে দূষিত জলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তেমনই গাজিয়াবাদের দুন্দাহেরা এসটিপি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা দিল্লিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সোমবার সেই রিপোর্ট সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। রিপোর্টে জানা যায়, ভ্যাকসিন ডিরেভড পোলিও ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে ওই জলে। সঙ্গে সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তারা। পোলিও ভাইরাসের উৎস ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশদ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শহরের ১২টি সংবেদনশীল এলাকায় বড় পরিসরে অভিযান শুরু হবে। এর জন্য ১০৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ০ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে এবং তাদের পোলিও টিকা খাওয়াবে।

    জেলার সার্বিল্যান্স আধিকারিক ডাক্তার আরকে গুপ্তা বলেন, ‘এলাকায় পোলিও ভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ঘটনা নিশ্চিতভাবে উদ্বেগের। স্বাস্থ্যবিভাগ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। বিপদ যাতে তৈরি না হয় সেই লক্ষ্যে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি শিশুর উপর পরীক্ষা চালিয়ে ভাইরাসের উৎস খোঁজার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা।’

    উল্লেখ্য, পোলিও ভাইরাস টিকা না নেওয়া শিশুদের অন্ত্রে সহজে বংশবিস্তার করে এবং মলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সন্দেহ করা হচ্ছে, যেসব এলাকায় স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা দুর্বল সেখানে আক্রান্তদের মলের মাধ্যমে ভাইরাস পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্রে পৌঁছে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস টিকা না নেওয়া বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল সেইসব শিশুদের পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে পারে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)