‘স্পেশাল মেনশন’ আর জাতীয় পুরস্কার এক নয়, বিভ্রান্তি নিয়ে সরব পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র! ইঙ্গিত কার দিকে?
আজকাল | ১০ জুন ২০২৬
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া যে কোনও শিল্পীর কাছেই গর্বের বিষয়। তবে এই পুরস্কারকে ঘিরে একটি ভুল ধারণা বা বিভ্রান্তির কথা তুলে ধরেছেন পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র। ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘স্পেশাল মেনশন’ পাওয়া আর জাতীয় পুরস্কার জেতা এক বিষয় নয়। অথচ বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই এই দুটিকে এক করে দেখানো হচ্ছে।
শুভ্রজিৎ লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই ‘স্পেশাল মেনশন’ পাওয়ার পর ‘জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত’ বলে পরিচয় করানোর নজির দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক সংবাদমাধ্যমও সেই পরিচয় ব্যবহার হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে ওই ব্যক্তি জাতীয় পুরস্কারের মূল বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন।
পরিচালকের মতে, আসল বিষয়টি কিন্তু অন্যরকম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যাঁরা ‘গোল্ডেন লোটাস’ বা ‘সিলভার লোটাস’ পান, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে জাতীয় পুরস্কারজয়ী। অন্যদিকে ‘স্পেশাল মেনশন’ হল বিচারকদের তরফে কোনও কাজকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া বা প্রশংসা করা। এটি সম্মানের, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে পুরস্কার জয়ের সমান নয়।
শুভ্রজিৎ বলেন, ‘স্পেশাল মেনশন’ নামটির মধ্যেই এর অর্থ স্পষ্ট। এটি একটি বিশেষ উল্লেখ বা বিশেষ প্রশংসা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সেই স্বীকৃতিকেই জাতীয় পুরস্কার হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। পরে সেই পরিচয় শিল্পীর জীবনপঞ্জি, সাক্ষাৎকার, প্রচারসামগ্রী এমনকী সিনেমার পোস্টার বা ট্রেলারেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিচালক বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে রসিকতার একটি উদাহরণও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এটা অনেকটা এমন যে কেউ হয়েতো একটি সম্মানজনক অংশগ্রহণের সার্টিফিকেট পেয়েছেন, আর পরে নিজেকে অলিম্পিক পদকজয়ী বলে দাবি করছেন। অর্থাৎ সম্মান রয়েছে, কিন্তু সেই সম্মানের প্রকৃতি বদলে দেওয়া ঠিক নয়। তবে শুভ্রজিৎ ‘স্পেশাল মেনশন’-এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখাননি। বরং তাঁর বক্তব্য, এটি নিজেই একটি বড় স্বীকৃতি। কোনও শিল্পীর কাজ যে বিচারকদের নজর কেড়েছে, তা অনেক বড় বিষয়। তাই সেই সম্মানকে আরও বড় করে দেখানোর জন্য অন্য পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
পুরস্কার ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তথ্যের সঠিক ব্যবহার কতটা জরুরি, পরিচালকের এই মন্তব্য নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। শুভ্রজিতের মতে, যে সম্মান যেমন, তাকে তেমনভাবেই তুলে ধরা উচিত। কারণ বাস্তব তথ্যের চেয়ে বড় প্রচার কখনওই প্রকৃত কৃতিত্বের বিকল্প হতে পারে না।