অশীন বিশ্বাস, কামারহাটি
সংখ্যাটা মোটেই কম না, কামারহাটি পুরসভার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৭৮টি অবৈধ আবাসন রয়েছে। যার কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান নেই বলেই দাবি স্থানীয়দের। এ বার কামারহাটি পুরসভা এ রকম আবাসনের প্রোমোটারদের নোটিস পাঠাল। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ছ'জন প্রোমোটার-সহ জমি মালিকদের বিরুদ্ধে অবৈধ বহুতল নির্মাণের জন্য এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কামারহাটি পুরসভার তরফে বলা হয়েছে, বেআইনি নির্মাণের জন্য আইন মেনেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আড়িয়াদহ ১ নম্বর প্রতাপ রুদ্র লেনে প্রায় এক কাঠা আট ছটাক জমিতে গড়ে উঠেছিল আড়িয়াদহের ত্রাস জয়ন্ত সিংয়ের পেল্লায় অট্টালিকা। যদিও পুরসভার নথিতে ওই জমি জয়ন্তের নামে নেই। যাদের জমি তাদের খোঁজও নেই। যদিও পুরসভা খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলো জমির মালিকের খোঁজে। পাশাপাশি দাবি, জয়ন্ত ওরফে জায়ান্ট সিংয়ের ওই দুধসাদা অট্টালিকা তৈরি হয়েছিল একটি পুকুরের বড় অংশ ভরাট করে। বাড়ির কোনও বিল্ডিং প্ল্যানও নেই। ফলে সেই বাড়ি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু আইনি জটিলতায় এখনও আটকে বাড়ি ভাঙার কাজ।
স্থানীয়রা বলছেন, এ রকম অবৈধ নির্মাণ কামারহাটি জুড়ে প্রায় সর্বত্র রয়েছে। পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধোবিয়া বাগান এলাকায় একটি সরু গলিতে তৈরি হয়েছে একটি পাঁচতলা আবাসন। দাবি, ওই আবাসনের কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান নেই। একই ভাবে তিন নম্বর ওয়ার্ডে চিংড়িতলাও এলাকাতেও একটি বহুতল বেআইনি ভাবে তৈরির অভিযোগ রয়েছে। ওই বহুতলের জন্য পাশের বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ছয় নম্বর ওয়ার্ডে একটি বেআইনি বহুতল বিপজ্জনক ভাবে হেলে গিয়েছে। সেটিও আইনি জটিলতায় ভাঙা যায়নি।
সবচেয়ে বেশি বেআইনি নির্মাণ হয়েছে পুরসভার এক থেকে সাত নম্বর ওয়ার্ডে। এলাকাবাসীর দাবি, গঙ্গার ধারে চটকল এলাকায় কোনও আইনের শাসন নেই। সেখানকার এক বাহুবলী আনিসুর রহমান ওরফে গুড্ডু আনসারি কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার হয়েছে। তারই নিয়ন্ত্রণে ছিল এই এলাকা। বিজেপির দাবি, পুরসভা বা প্রশাসন নয়, এই সমস্ত বাহুবলীদের মুখের কথায় কামারহাটিতে বহুতল তৈরি হতো, বদলে বিপুল অঙ্কের উপঢৌকন পৌঁছে যেত আধিকারিকদের কাছে।
কামারহাটির ওই সাতটা ওয়ার্ডে প্রায় ৮৭টি বহুতল তৈরি হয়েছে বলে দাবি। যদিও পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে দেড় বছর আগে এই ৮৭টি বহুতলে আইনি নোটিস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। প্রভাব খাটিয়ে বা আইনি জটে দিব্যি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে নির্মাণগুলি। বিজেপি সরকার ওই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে কিনা সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
নতুন করে নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি থানায় এফআইআর করতে শুরু করেছে পুরসভা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নিজেদের কাঁধ থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া পুর আধিকারিকরা। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যেই ১৭৮টি আবাসনে নোটিস পাঠিয়েছি। বহু আবাসনের প্রোমোটার ও জমির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। একাধিক বিপজ্জনক আবাসনে মামলা চলায় আমরা ভাঙতে পারিনি। সরকার যে রকম নির্দেশ দেবে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'