• সোনা পাপ্পু ও জয় কামদারের পর নিশানায় গাঙ্গুলি গ্রুপ!
    আজকাল | ১০ জুন ২০২৬
  • গোপাল সাহা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দুর্নীতি, তোলাবাজি, জমি দখল-সহ একাধিক কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস হয়েছে। তৎপর হয়েছে কলকাতা এবং রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। গ্রেপ্তার হয়েছে একাধিক তৃণমূল নেতা ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বহু মাফিয়া। যার মধ্যে রয়েছে জমি দখল ও সিন্ডিকেট রাজ-এর তিন পান্ডা সোনা পাপ্পু, জয় কামদার ও কলকাতা পুলিশের কর্তা (ডেপুটি কমিশনার) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম। তবুও বেআইনি দখল ও নির্মাণ চলছে রমরমিয়ে! 

    মূলত দক্ষিণ কলকাতার সোনারপুর–নরেন্দ্রপুর এলাকায় ফের জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের মুখে মুখে ফিরছে একটি নাম 'গাঙ্গুলি গ্রুপে'র কর্ণধার অমিত গাঙ্গুলি। অভিযোগ, ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট রাজ চালাচ্ছে। আর এই গাঙ্গুলি গ্রুপের কর্ণধার অমিত গাঙ্গুলি এই সকল বেআইনি কার্যকলাপের বর্তমানে মূল পান্ডা। 

    গড়িয়া এলাকায় গড়িয়া প্লেস নামে রাস্তার পাশে একটি পুকুর বেআইনি ভাবে ভরাট করার কাজ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেখানেই ওই জলাশয় অর্ধেকের বেশি অংশ ভরাট করে টিনের বেড়া দিয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়াও গড়িয়ার ফর্তাবাদ এলাকার মহামায়াপুরে আরও একটি জায়গায় টিন দিয়ে ঘিরে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব কাজ বেআইনিভাবে করা হচ্ছে এবং লোকাল থানার সঙ্গে যোগসাজস রয়েছে। পুলিশের বদলি হওয়ার পরে আবার নতুন করে আঁতাত করে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পাশাপাশি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু রোডের রথতলায় বেআইনিভাবে বিরাট একটি জলাশয় বুজিয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। আর এই সকল নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত 'গাঙ্গুলি গ্রুপ'-এর কর্ণধার অমিত গাঙ্গুলী। 

    এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলা ও তদন্তের পরও এই ধরনের কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের আরও দাবি, জলাশয়ের এলআর রেকর্ড তৃণমূলের জমানায় মোটা টাকার বিনিময়ে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। তবে রেকর্ড পরিবর্তন হলেও জলাশয় ভরাট করা যায় না। নির্মাণও করা যায় না। 

    স্থানীয়দের আরও দাবি, নির্বাচনের আগে অমিতের ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’ নজরুল নামে এক জমি মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। নির্বাচনের সময় নরেন্দ্রপুর থানার আধিকারিককে বদল করা হয়েছিল। পালাবদলের পরেও অমিত গাঙ্গুলি থানার কিছু আধিকারিকদের আবার নতুন করে আঁতাত শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ তদন্ত যাতে হয় সেই জন্য স্থানীয়রা ইডি তদন্তেরও দাবি জানাচ্ছেন।  

    বলাবাহুল্য, জমি দখলে বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলায় প্রথমে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তথা রাসবিহারীর প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারকে ইডি একাধিক বার জেরা করে। এই মামলার তদন্তে নেমে ইডি প্রথমে সিন্ডিকেটের বড়মাথা জয় কামদার নামে এক নির্মাণ ব‍্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। পরে কসবার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে গ্রেফতার করে। এরপরে ইডির অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের প্রভাবশালী ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। আত্মসমর্পণ করার পর সেখান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। সোমবার এই মামলায় শ্রেয়া পান্ডেকেও ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গত সোমবার। 

     গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গত সোমবার রাতে গড়িয়ার মহামায়াতলার ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’-এর একটি আবাসন প্রকল্পে ঢুকে আইপিএস অফিসার শান্তি দাস গুন্ডামি করেছেন বলে অভিযোগ করে কোম্পানির কর্মীরা। এমনকি ওই আইপিএস অফিসার শান্তি দাস সেখানকার কর্মীদের মারধর করে বলে দাবি করে সেখানকার কর্মীদের। যদিও পরবর্তীতে ভাইরাল হওয়া সিসি ক‍্যামেরার ভিডিয়োতে কোথাও আইপিএস অফিসার শান্তি দাসকে সেখানকার কর্মীদের মারধর কিংবা গুন্ডামি কোনওটাই করতে দেখা যায়নি।

    এই ঘটনা প্রসঙ্গে আইপিএস অফিসার শান্তি দাস জানান, তিনি সেখানে থাকতেন। তাঁর জিনিসপত্র সেখানে রয়েছে। এই অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি আরও জানান, ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

    এই বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "শান্তিদেবী সেখানে অর্থাৎ ওই আবাসনে থাকতেন, তাই তিনি সেখানে আসতেই পারেন। কোনও মারধর বা অশান্তির ঘটনা ঘটেছে বলে আমি অন্তত শুনিনি।"
  • Link to this news (আজকাল)