• 'অরূপ বিশ্বাসের ছোটবেলার বন্ধু মেসি?'
    আজকাল | ১০ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেসিকে জড়িয়ে ধরে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ‘গোট টুর’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার মামলায় আজ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মেসিকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। এই ঘটনার ফলে গোটা দেশের কাছে রাজ্যের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

    এদিন ভরা এজলাসে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন! মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু? তিনি আরও জানতে চান, অরূপ বিশ্বাস এসব কীভাবে করতে পারলেন? মেসির মতো একজন আন্তর্জাতিক তারকার অত কাছাকাছি অরূপ বিশ্বাস গেলেন কেন, তাতে কি মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি? বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গোটা দেশের আরও অনেক জায়গায় মেসি গিয়েছেন, কিন্তু কোথাও তো এই ধরনের নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেনি।

    এই মামলায় একাধারে স্বস্তি ও ধাক্কা— দুই-ই পেলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। মেসিকাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ পেলেও উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পুলিশের নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দিতে হবে অরূপকে। তদন্তের প্রক্রিয়াকে কোনওভাবেই আটকানো হবে না এবং তা নিজের গতিতেই চলবে। তবে অরূপকে আপাতত পুলিশি গ্রেপ্তারির হাত থেকে রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে নিম্ন আদালতে নিজের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে।

    গোটা ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ১৭ মে, যখন মেসির অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেন। সেই অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, জোর করে  চাঁদা আদায়, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক স্তরের একটি অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় চরম গাফিলতির মতো একাধিক গুরুতর ধারার উল্লেখ করা হয়েছিল। এই এফআইআর-এর ভিত্তিতেই গত ৪ জুন অরূপ বিশ্বাসকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে সেই সময় প্রাক্তন মন্ত্রী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কিছুটা সময় চেয়ে নেন। পুলিশের দাবি, তিনি অসুস্থতার সপক্ষে কোনও  নির্ভরযোগ্য মেডিক্যাল নথি বা রিপোর্ট জমা দেননি। এরপরই ৮ জুন সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে পুনরায় বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ৭ জুন তাঁর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ দু’টি নোটিসও সাঁটিয়ে আসে। কিন্তু সেই নির্ধারিত সময়েও অরূপ হাজিরা দেননি এবং বর্তমানে তিনি ‘নিখোঁজ’ বলেই জানা যাচ্ছে।

    এর আগে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেখানে আবেদন খারিজ হওয়ার পরই তিনি তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ৮ জুন নির্ধারিত সময়ে তিনি সশরীরে তো যানইনি, এমনকি তাঁর আইনজীবীর মারফতও পুলিশের কাছে কোনো বার্তা পৌঁছায়নি। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে বারবার এই অনুপস্থিতির পর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। আইনি মহল মনে করছে, আইনগত প্রক্রিয়া মেনে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পুলিশ আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে এবং আদালতের এই নির্দেশের পর তদন্তের গতি কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

     
  • Link to this news (আজকাল)