কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে অভিষেক, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সিআইডির!
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১০ জুন ২০২৬
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঠিক করার বিষয়ে সই জাল কাণ্ড নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি এখন তোলপাড়। কারণ এই বিষয়ে সিআইডি টিম তদন্ত করতে পৌঁছে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ারে থাকা দলীয় কার্যালয়ে। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও হানা দেয় তদন্তকারীরা। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিবিধির সম্পর্কে জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করল সিআইডি বলে সূত্রের খবর।
এদিকে তাহলে কি কলকাতায় ফিরলেই গ্রেপ্তার হতে পারেন অভিষেক? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই নিয়ে গুঞ্জন আরও বাড়তে শুরু করে যখন সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন অভিষেক। সিআইডি-র অতিসক্রিয়তা এবং হেনস্থার অভিযোগ তুলে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছেন অভিষেকের আইনজীবীরা। অভিষেককে তিনবার নোটিস দেওয়া হলেও তা এড়িয়ে যান তিনি। কারণ একবার তিনি অসুস্থ বলে জানান। আর একবার ব্যস্ত বলে জানান। এখন দিল্লিতে থাকায় সময় চেয়ে নেন।
অন্যদিকে এবার অভিষেকের গতিবিধি জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিআইডি। সুতরাং ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ ফিরলেই সিআইডির মুখোমুখি হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আর মামলার শুনানি নিয়ে অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই মামলা অত্যন্ত দ্রুত শুনানির প্রয়োজন। গতকালই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে সিআইডি তল্লাশি চালিয়েছে। প্রতিনিয়ত হেনস্থা করা হচ্ছে। তাই আদালতের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত শুনানি দরকার।’
তাছাড়া ঘটনার সূত্রপাত হয়, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। তখন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জমা দেয়নি তৃণমূল। তারপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তখন ১৯ মে আবার কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না বলে অভিযোগ। সেখানেই সই নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা হয। আর তা জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। সেখানেই সই গরমিল শুরু। তখন দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।