রাজ্যসভাতেও চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল! সুখেন্দুশেখরের পর সাংসদ পদ ছাড়লেন সুস্মিতা দেব
প্রতিদিন | ১০ জুন ২০২৬
তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন অব্যাহত। লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল! সদ্য সোমবার সুখেন্দুশেখর রায় সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার তৃণমূলের আরও এক রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব পদ ছাড়লেন। রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের সাংসদরা ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠছেন। রাজধানীর অন্দরের খবর, চলতি ও আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও দুই তৃণমূল সাংসদ নিজেদের পদ ছাড়তে পারেন! সেই জল্পনা ক্রমে জোরালো হচ্ছে।
লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাস’। রাজ্যে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খানখান হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূল’ তৈরি হয়েছে। দিল্লিতেও লোকসভায় তৃণমূল সাংসদরা বিদ্রোহী হয়েছেন। পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙন। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার সেই একই পথে হাঁটলেন সুস্মিতা দেব।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে রয়েছেন। সেইসময়ই দলের দুই রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করলেন। সুস্মিতা দেব অসমের বাসিন্দা। দলের অসমের সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরে। তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার সকালে দিল্লিতে রাজ্যসভার এই সাংসদের সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বৈঠক হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজই দুপুরে এনডিএর মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে চা চক্রে যোগ দেবেন বলে খবর। সেজন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে রয়েছেন। সেই আবহেই আজ সুস্মিতা ও হিমন্তের বৈঠক হয় বলে খবর। বিজেপিতে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জল্পনা। দল ছাড়ার পরই তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে ও স্বাধীন দেশে, কে কোন দলে যাবে, তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলার রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ কোনওদিনই ছিল না। আর তৃণমূলের ভিতরে কী হচ্ছে , না হচ্ছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। অসমে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
তারপর এদিন বেলায় সুস্মিতা দেব তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়েন। সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইলেও তাঁর লেখা বদলে গিয়েছে। রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য লেখা আছে। জানা গিয়েছে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই সুস্মিতা দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হামলার পর থেকেও তাঁকে তেমন কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরাও ক্রমে বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন। সেই কথা কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই আবহেই দলের দ্বিতীয় রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করলেন। এই মুহূর্তে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১১। তাঁদের মধ্যে আর কারা পদ ছাড়বেন? সেই নিয়েই চলছে জোর জল্পনা।